খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে চৈত্র ১৪৩১ | ২১ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
রহমত ও মাগফিরাতের দশক শেষ হওয়ার পর আমাদের সামনে হাজির হয়েছে নাজাতের দশক, যা পবিত্র রমজানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। রমজানের শেষ দশকে শান্তির বার্তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, এবং এই রাতকে মহান আল্লাহ লাইলাতুল কদর আখ্যা দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে (লাইলাতুল কদর)। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রাত কী? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাতে প্রতিটি কাজের জন্য ফেরেশতারা এবং রুহ তাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়। সেই রাতে শান্তিই শান্তি, ফজর হওয়া পর্যন্ত।” (সুরা কদর, আয়াত : ১-৫)
বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় যে, উল্লিখিত আয়াতে যে মহিমান্বিত রাতের কথা বলা হয়েছে, তা এই শেষ দশকেই লুকিয়ে আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন। তিনি প্রতিবছর রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, এবং ইবাদতের মাধ্যমে পূর্ণ সময় কাটানোর চেষ্টা করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “ইন্তেকাল পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। এরপর তাঁর স্ত্রীরাও ইতিকাফ করেছেন।” (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৮; মুসলিম, হাদিস : ২০০৬)
শেষ দশকে ইবাদত বাড়ানোর পাশাপাশি অধিক পরিমাণে দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ। নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি দোয়া করতেন এবং উম্মতকে এই সময় দোয়া করার পরামর্শ দিতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমি লাইলাতুল কদর জানতে পারি, তাহলে সে রাতে কী বলব?” তিনি বলেন, “তুমি বলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি’।” (অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি সম্মানিত ক্ষমাকারী, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।) (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)
এছাড়া, যেহেতু এটি নাজাতের দশক, এই সময়টি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাওবা করার উপযুক্ত সময়। রমজান হল মহান আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ করিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার মাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ওই ব্যক্তির নাক ধুলিধূসরিত হোক, যে রমজান পেল এবং তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল।” (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
খবরওয়ালা/এসআর