খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে পৌষ ১৪৩২ | ৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৮) নামক এক যুবদল নেতাকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি স্থানীয় পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে সংঘটিত হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত জানে আলম সিকদার রাউজান উপজেলা যুবদলের একজন সক্রিয় সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জানে আলম অলিমিয়াহাট বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছামাত্রই একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতকরা দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাউজানের সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতি ও নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিচের সারণিতে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| নিহতের নাম ও পদবি | মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (উপজেলা যুবদল সদস্য) |
| রাজনৈতিক বলয় | গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী |
| হত্যাকাণ্ডের ধরন | মোটরসাইকেল আরোহী কর্তৃক গুলি |
| ৫ আগস্ট পরবর্তী মোট হত্যা | ১৭টি (রাজনৈতিক কারণে ১২টি) |
| বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত | ১০ জন |
| নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিহত সদস্য | ৫ জন |
| রাজনৈতিক সংঘর্ষের সংখ্যা | শতাধিকবার |
| আহতের সংখ্যা (গুলিবিদ্ধ) | ৩৫০ জনের বেশি |
রাউজানের এই হত্যাকাণ্ডটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই অঞ্চলে ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংঘাতের যে ধারা তৈরি হয়েছে, এটি তারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক মাসে এখানে ১০ জন বিএনপি কর্মী অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বলি হয়েছেন। বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমদ জানিয়েছেন, জানে আলম একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন এবং তার মৃত্যুতে দলীয় কোন্দল নাকি অন্য কোনো শত্রুতা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দিপ্তেষ দাশ জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক কারণে শতাধিক সংঘর্ষ ও কয়েকশ মানুষের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস রাউজানকে বর্তমানে চট্টগ্রামের সবচেয়ে অস্থির এলাকায় পরিণত করেছে। সাধারণ মানুষ এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জানে আলমের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।