খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাসের পাশাপাশি বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। নগরীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা রান্নার জন্য এখন পুরোপুরি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বা মাটির চুলার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। সংকট এতটাই ঘনীভূত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের ভরসা এখন বৈদ্যুতিক চুলা বা বাইরের কেনা খাবার।
এলাকাভিত্তিক ভোগান্তির চিত্র
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, খিলগাঁও এবং মগবাজারের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, দিনে মাত্র এক-দুই ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া গেলেও তার চাপ থাকে অত্যন্ত কম। সাধারণত গভীর রাত বা খুব ভোরে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস আসে, যা দিয়ে দিনের মূল রান্না করা প্রায় অসম্ভব। গ্যাস না পেলেও গ্রাহকদের নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
নিচে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বর্তমান গ্যাস পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| এলাকার নাম | বর্তমান গ্যাস পরিস্থিতির চিত্র | বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী | কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। | রাইস কুকার ও বাইরের খাবার। |
| ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ | বুধবার থেকে চুলা জ্বলছে না, চাপ অত্যন্ত কম। | বৈদ্যুতিক ইনডাকশন চুলা। |
| খিলগাঁও ও মগবাজার | পাইপলাইনের গ্যাস নেই, এলপিজি সিলিন্ডার দুষ্প্রাপ্য। | ২,৫০০ টাকায় এলপিজি ক্রয় বা মেস খাবার। |
| কাঁঠালবাগান ও গ্রিনরোড | ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সামান্য গ্যাস। | রাতে রান্না করে রাখা। |
| কামরাঙ্গীরচর ও বস্তি এলাকা | সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাইপলাইনের কার্যকারিতা নেই। | মাটির চুলা ও কাঠের খড়ি। |
এলপিজি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজার পরিস্থিতি
পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে মানুষ এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকলেও সেখানে রয়েছে ভিন্ন বিড়ম্বনা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি—প্রায় ২,৪০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চড়া দাম দিয়েও খুচরা দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর নিউমার্কেট ও বায়তুল মোকাররমের ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকার কেনার ভিড় বাড়ছে। তবে রান্নার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে মাসিক বিল কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
কারিগরি ত্রুটি ও তিতাসের বক্তব্য
গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জানিয়েছে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে বড় ধরণের কারিগরি বিপর্যয় দায়ী। তুরাগ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া একটি প্রধান পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং শেরেবাংলা নগর এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণকারী ভালভ (Valve) বিস্ফোরণের ফলে এই তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আগে থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের স্বল্পতা থাকায় এই যান্ত্রিক ত্রুটি নেটওয়ার্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, যার ফলে রাজধানীর বিশাল একটি অংশ গ্যাসশূন্য হয়ে পড়েছে।
সংকট কাটিয়ে উঠতে তিতাস কর্তৃপক্ষ জরুরি সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করলেও, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচরের মতো এলাকায় এখন মাটির চুলা তৈরি করে রান্নার কাজ সারছেন। নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এই যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।