খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় তাঁর সহযোগীও আটক হয়েছেন। অভিযানটি গত রোববার দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের একটি ইটভাটায় পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম খোন্দকার মশিউল আজম (৫৫)। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন বালিয়াকান্দি সদর উপজেলার শেখপাড়ার রফিক শেখের ছেলে মো. রিদয় শেখ ওরফে পাপ্পু (৩০)।
অভিযানকালে দুজনের কাছ থেকে নিম্নলিখিত জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে:
| জব্দকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| দেশি বন্দুক | ১টি |
| চাকু | ২টি |
| ওয়াকিটকি | ৩টি |
| ওয়াকিটকির চার্জার | ৪টি |
| মোবাইল ফোন | ৮টি |
| মদের বোতল | ১টি |
| খালি মদের বোতল | ৩টি |
| নগদ টাকা | ৩৮,০০০ টাকা |
স্থানীয় সেনা ও পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি বালিয়াকান্দি সদর উপজেলার বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একটি চেকপোস্টে মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করে জরিমানা করা হয়। এ খবর পেয়ে খোন্দকার মশিউল আজম নিজ বাহিনী নিয়ে সেখানে গিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করেন।
এই ঘটনার পর, গত ১৭ ডিসেম্বর ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক খাইরুল ইসলাম বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি খোন্দকার মশিউল আজম দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
তাছাড়া, খোন্দকার মশিউল আজমের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টে ‘দুবলাবাড়ি জামিয়া ব্রিকস’ ইটভাটা জবরদখল করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার, চাঁদাবাজি, মারামারি, হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ মোট ১৮টি মামলার সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যৌথ বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোন্দকার মশিউল আজম স্বীকার করেছেন, তার বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি চালাত এবং বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া ওয়াকিটকি ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করত।
মশিউলের স্ত্রী কোহিনুর বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “মামলার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে শুনেছি। এছাড়া ষড়যন্ত্রের শিকারও হচ্ছেন। আমি আদালতের ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করব।”
সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় খোন্দকার মশিউল আজমকে রাজবাড়ী সদর থানায় রাখা হয়েছে। নতুন করে অস্ত্র আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ধারায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার তাকে রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হবে।