খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চাপে দেশের রপ্তানি খাত বর্তমানে কঠিন সময় অতিক্রম করছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় নিম্নমুখী রয়েছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের দুর্বল পারফরম্যান্সকে দায়ী করা হচ্ছে। এই খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ জোগান দেয়, ফলে এর স্থবিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাত, বিশেষ করে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা। এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের শিল্প খাতেও প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে তৈরি পোশাক শিল্পকে গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে।
শিল্পমালিকদের অভিযোগ, কারখানা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায়ও উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবহার বাড়ছে, যা উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ করে তুলছে।
নিটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ক্রয়াদেশের পরিমাণও সন্তোষজনক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় শিল্পটি একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ছে।
নিচে সাম্প্রতিক রপ্তানি আয়ের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | বর্তমান অর্থবছর (জুলাই–মার্চ) | আগের অর্থবছর (জুলাই–মার্চ) | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| মোট রপ্তানি আয় | ২৮.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার | ৩০.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার | হ্রাস ৫.৫১ শতাংশ |
| মার্চে নিট পোশাক রপ্তানি | ১.৪২ বিলিয়ন ডলার | বেশি ছিল | হ্রাস ২১.২০ শতাংশ |
| মার্চে ওভেন পোশাক রপ্তানি | ১.৩৬ বিলিয়ন ডলার | বেশি ছিল | হ্রাস ১৭.৩২ শতাংশ |
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ব্যাহত হবে। পাশাপাশি অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, গবেষকরা দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে জোর দিচ্ছেন। সৌর ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ জন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত নীতিমালা ও কার্যকর সহায়তা।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসন না হলে দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্প তৈরি পোশাক খাত গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।