খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজবাড়ীর পাংশার একটি পরিবারের দুই মানসিক অসুস্থ ভাই-বোন দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। অর্থের অভাবে এতদিন হয়নি তাদের চিকিৎসা।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মেঘনা মোল্লা পাড়া গ্রামের ফজাই মোল্লার ছেলে জালাল মোল্লা (৩৫) ও ছোট মেয়ে হাজেরা খাতুন (২৭)—দুজনেই মানসিক রোগে আক্রান্ত।
জালাল এক সময় কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু প্রায় দশ বছর আগে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি।
অন্যদিকে, বিয়ের পর এক সন্তানের মা হন হাজেরা। কিন্তু সেই সন্তান নানাবাড়িতে এসে পানিতে ডুবে মারা যায়। সন্তানের শোক সহ্য করতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারান হাজেরা। এরপর ভেঙে যায় তার সংসার।
এই দুই ভাইবোনের ভরসা বৃদ্ধ মা-বাবা। সন্তানদের সুস্থ করার আশায় তারা পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু টাকার অভাবে মাঝপথেই চিকিৎসা থেমে যায়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মানসিক সমস্যা, পরিবারও হয়ে পড়ে অসহায়।
অবশেষে বাবা-মা বাধ্য হয়ে সন্তানদের পায়ে লোহার বেড়ি ও শিকল পরিয়ে রাখতে শুরু করেন। এখন সেটিই তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।
জালাল ও হাজেরার বাবা মো. ফজাই মোল্লা বলেন—
“প্রায় ১০ বছর আগেও আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। মাঠে কাজ করত, সংসারে সাহায্য করত। হঠাৎ তার মানসিক সমস্যা শুরু হয়। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম, কিছুদিন চিকিৎসাও হয়েছিল। কিন্তু টাকার অভাবে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা চালানো যায়নি। পরে বাড়িতে আনতে হয়। বাড়িতে থেকেও মাঝেমধ্যে সে নিখোঁজ হয়ে যেত, সবাইকে মারধর করত। তাই বাধ্য হয়ে তার পায়ে লোহার বেড়ি পরাতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন—
“এরপর আমার মেয়ের বিয়ে হয়, একটি সন্তান জন্ম নেয়। দুর্ভাগ্যবশত সেই সন্তান আমাদের বাড়িতে পানিতে ডুবে মারা যায়। সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে মেয়েও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বলেন—
“আমার ছেলে-মেয়ে মাঝে মাঝে আমাকে মারধর করে। শরীরজুড়ে কত আঘাত সইতে হয়, তা কাউকে বলা যায় না। তবুও তারা তো আমার সন্তান! সন্তানকে ফেলে আমি কোথায় যাব? আমি রান্না করে ঘরে খাবার রেখে দিই, যখন ইচ্ছা তখন খেয়ে নেয়। না খেয়ে থাকুক—এটা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারি না। যত কষ্টই দিক, মায়ের বুক তো সন্তানের জন্যই ধ্বনিত হয়।”
এলাকাবাসীর মতে, একসময় জালাল ও হাজেরা স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করত, কাজ করত। এখনো সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন পেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে তারা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আবু দারদা গণমাধ্যমকে বলেন—
“দুজন প্রতিবন্ধী ভাইবোন ইতোমধ্যেই উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে এর বাইরেও সহযোগিতা প্রয়োজন হলে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করতে হবে। আবেদন পেলে আমরা যথাসাধ্য সহায়তা করার চেষ্টা করব।”
খবরওয়ালা/শরিফ