খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ওই এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন: মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) এবং মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
নিহতের শ্বশুর আবদুল মালেক বলেন, মিনারুল কৃষিকাজ করতেন এবং তার ঋণ ছিল বলে জানা গেছে। তারা মাটির ঘরে বসবাস করতেন। চারজনের মধ্যে উত্তরের ঘরে পাওয়া গেছে মা ও মেয়ের মরদেহ, আর দক্ষিণের ঘরে বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ছেলের মরদেহ পাওয়া যায়।
মতিহার থানা পুলিশের এএসআই কালাম পরভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মিনারুল তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গামছা দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
চিরকুটে যা লিখা আছে
স্থানীয়রা জানান, দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। ঋণগ্রস্ত হয়ে অভাব অনটন ও খাবার সংকটে তারা এ পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে চিরকুট লিখে গেছেন।
চিরকুটে লেখা আছে, আমি মিনারুল নিচের যে সব লেখা লেখবো। সব আমার নিজের কথা লিখে যাচ্ছি। কারণ, আমরা চারজন আজ রাতে মারা যাবো। এই মৃত্যুর জন্য কারো কোনো দোষ নেই।
এতে লেখা আছে, আমি মিনারুল প্রথমে আমার স্ত্রীকে মেরেছি। তারপর আমার মাহিমকে (ছেলে) মেরেছি। তারপর আমার মিথিলাকে (মেয়ে) মেরেছি। তারপর আমি নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছি।
চিরকুটে লেখা আছে, আমাদের চারজনের মরা মুখ যেন বাপের বড় ছেলে ও তার স্ত্রী-সন্তান না দেখে এবং বাপের বড় ছেলে যেন জানাজায় না আসে। আমাদের চার জনকে কাফন দিয়ে ঢাকতে আমার বাবা যেন টাকা না দেয়। এটা আমার কসম।
চিরকুটের আরেক পাতায় লেখা আছে, আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম, কারণ আমি একা যদি মরে যাই তাহলে, আমার স্ত্রী-সন্তানরা কার আশায় বেঁচে থাকবে? কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমারা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো। কারও কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমার জন্যে কাউকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য অনেক মানুষের কাছে ছোট হয়েছে, আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
(চিরকুটটি নিহতদের ঘর থেকে উদ্ধার করা হলেও, এটি নিহত মিনারুলের নিজ হাতে লিখা কি না সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।)
খবরওয়ালা/এমএজেড