খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অজ্ঞাত রোগে এক মধ্যবয়সী নারীর মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার পরিচয় জানা যায়—তিনি নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি ১৪ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন এবং গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনহারান।
মৃত্যুর পর রোগীর পরিবার ও স্বজনরা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে পারেনি। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগের প্রকৃতি শনাক্ত করতে চেষ্টা করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর উপসর্গগুলো ছিল অনির্দিষ্ট এবং দ্রুতগতিতে জটিলতায় পরিণত হয়েছে। প্রধান উপসর্গগুলো ছিল:
| উপসর্গ | বর্ণনা |
|---|---|
| জ্বর | দীর্ঘমেয়াদি, তীব্রতা বাড়তে থাকে |
| মাথা ব্যথা | মাঝে মাঝে মাথা ঘোরা ও তীব্র ব্যথা |
| খিঁচুনি | অল্প সময়ের জন্য সংবেদনশীলতার ক্ষুদ্র খিঁচুনি |
| বমি ভাব | খাবার গ্রহণে অস্বস্তি এবং বমি ভাব |
এই উপসর্গগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণের সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, রোগ শনাক্তে অনুমান নির্ভর করা সম্ভব নয়। তাই রোগের প্রকৃতি নিশ্চিত করতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ইতিমধ্যেই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করেছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, “আইইডিসিআর রোগীর নমুনা পরীক্ষা করছে। পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত রোগের ধরন সম্পর্কে কিছু নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত সময়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা।”
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক। তারা জনসাধারণকে বলেছেন, অনধিক ভীতি ছড়ানোর পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাতে। বিশেষ করে জ্বর, মাথা ব্যথা ও বমি ভাবের মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালে উপস্থিত থেকে নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং রোগের উৎস শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। তারা সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই ঘটনার ফলে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এই ঘটনার উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং তথ্য জনগণের সঙ্গে শেয়ার করছে।