খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীতে অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লা’র বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। এই মামলা ৪ জানুয়ারি চন্দ্রিমা থানায় করা হয়। তবে বিষয়টি সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার সঙ্গে অভিযুক্ত অধ্যাপকের পরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ২০২১ সাল থেকে শুরু হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলে। অভিযোগ, ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮ থেকে ৯টার মধ্যে শিক্ষক দুলাল, তার মায়ের অসুস্থতার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়। পরদিন ভোরে দুলাল মোল্লা পালিয়ে যান, পরে জনৈক এক নারীকে ‘স্ত্রী’ হিসেবে দেখিয়ে আরও তিন সহযোগীর সঙ্গে ফিরে এসে তাকে মারধর ও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা বাসায় তাকে একা ফেলে গ্যাস ও পানি বন্ধ করে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, “আমি থানায় মামলা করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। বর্তমানে সমাধানের জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে কিছু যোগাযোগ শুরু হয়েছে, এবং আমার মুরুব্বিরা সমাধানের চেষ্টা করছেন।”
| দফতর/সংস্থা | প্রতিক্রিয়া |
|---|---|
| এগ্রোনমি ও এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগ | সভাপতি ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তবে থানা বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অভিযুক্ত অসুস্থতার কারণে এক মাসের ছুটি নিয়েছেন এবং বর্তমানে বিভাগে উপস্থিত নন। |
| বিশ্ববিদ্যালয় প্রোক্টর | অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ নেই, তাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। |
| চন্দ্রিমা থানা | ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন জানান, মামলা তদন্তাধীন এবং অভিযুক্ত পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | মাসুদ রানা জানান, “তদন্ত চলছে, আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান রাবিতে করা হয়নি।” |
অভিযুক্ত অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। চূড়ান্তভাবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত আছে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই মামলার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।