খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া আবারও পেট্রল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রল (গ্যাসোলিন) রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা প্রাথমিকভাবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। যদিও এই পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে উৎপাদনের দিক থেকে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য রপ্তানি সীমিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
গত বছরের অভিজ্ঞতা রাশিয়াকে আরও সতর্ক করেছে। ইউক্রেনের হামলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রলের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে সরকারকে বারবার রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এবার আগেভাগেই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে রাশিয়া প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন পেট্রল রপ্তানি করেছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেলের সমান। এই পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে।
নিচের সারণিতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক পেট্রল রপ্তানি পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| বার্ষিক রপ্তানি (২০২৪) | ৫০ লাখ মেট্রিক টন |
| দৈনিক রপ্তানি | প্রায় ১,১৭,০০০ ব্যারেল |
| সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শুরু | ১ এপ্রিল |
| সম্ভাব্য শেষ সময় | ৩১ জুলাই |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বল্পমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ রাশিয়ার পেট্রলের ওপর নির্ভরশীল, তারা বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রলের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা আনার কৌশল, অন্যদিকে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।