খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে চৈত্র ১৪৩১ | ৩ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ময়মনসিংহের ইয়াসিন মিয়া শেখ নামে এক যুবক। তার এ মৃত্যুর খবরে শোকে কাতর পরিবার, শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ গোটা এলাকাজুড়ে। মরদেহ ফিরে পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্য।
ছেলের ছবি হাতে নিয়ে মায়ের বিলাপ থামছেই না, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন ফিরোজা খাতুন। ছোটভাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বড়ভাই রুহুল আমিন শেখ।
বাবার স্বপ্ন ছিলও ছেলে হবে সেনা সদস্য। কিন্তু দেশে সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ভালো বেতনে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলার মরিচালি গ্রামের ইয়াসিন মিয়া শেখ। মস্কো থেকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দূরের ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরির পর বাবার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে যোগ দেন ইউক্রেন যুদ্ধে। গত ২৬ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় থেমে যায় সেই স্বপ্নের যাত্রা।
ঈদুল ফিতরের পরদিন গত মঙ্গলবার বিকেলে ইয়াসিনের এক সহযোদ্ধা ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর জানায় তার পরিবারকে। এ ঘটনায় শোকে বিহ্বল পরিবারের সদস্যরা। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের চাওয়া লাশটা যেন ফিরে পান তারা।
গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইএসসি পাস করার পরে ইয়াসিন শেখ বঙ্গবন্ধু কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৭ সালে বাবা মারা যান দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ইয়াসিন শেখে বড় ভাই রুহুল আমিন কৃষি কাজ করেন ।
নিহতের বড় ভাই রুহুল আমি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জানতে পারি ইয়াসিনকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। এরপর ২৬ মার্চ তার মৃত্যু হয়েছে।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।
খবরওয়ালা/এসআর