খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান। যদিও তিনি জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এবং শারীরিক সক্ষমতা যতদিন সমর্থন করবে, ততদিন মাঠে থাকবেন।
সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন রুবেল। এরপর জাতীয় দলে আর সুযোগ হয়নি তাঁর। অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, বয়স ও শারীরিক ফিটনেস এখন আগের মতো নেই। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা লিগ ও বিপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারা—সব মিলিয়ে মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর।
তিনি আরও জানান, জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা যেমন গর্বের, তেমনি বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা আবেগও কাজ করছে। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াড পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ যাত্রা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের হয়ে খেলা জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সাফল্য ও ব্যর্থতা—দুইই ছিল বলে মনে করেন রুবেল। তাঁর ভাষায়, ভালো সময়েও তিনি নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। এর ফলে উইকেট সংখ্যা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভালো ফর্মে থাকা সত্ত্বেও একাধিক সময়ে দল থেকে বাইরে থাকতে হয়েছে, যার কারণ তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। তবে এই বিষয়ে কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানান তিনি, বরং এটি পেশাদার ক্রিকেটের অংশ বলেই মেনে নিয়েছেন।
রুবেল হোসেনের ক্যারিয়ারে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মুহূর্ত। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এবং ২০১৩ সালে একই দলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট শিকারের পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের কয়েকজন কিংবদন্তি ব্যাটারের উইকেটও শিকার করেছেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের গর্বের অংশ হয়ে থাকবে।
| বছর/ইভেন্ট | প্রতিপক্ষ/ঘটনা | অর্জন/উল্লেখযোগ্য দিক |
|---|---|---|
| ২০০৯ | নিউজিল্যান্ড | সিরিজ হোয়াইটওয়াশে ভূমিকা |
| ২০১৩ | নিউজিল্যান্ড | হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট |
| ২০১৫ | ইংল্যান্ড | বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় |
| টেস্ট ও ওয়ানডে | শচীন টেন্ডুলকার | উইকেট শিকার |
| বিভিন্ন ম্যাচ | এবি ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলি | গুরুত্বপূর্ণ উইকেট |
রুবেল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শচীন টেন্ডুলকার, এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটারদের উইকেট নেওয়ার মুহূর্তকে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনগুলোর মধ্যে। কোহলির উইকেট নেওয়ার সময় তাঁর উদযাপনও বিশেষভাবে স্মরণীয় ছিল বলে জানান তিনি। যুব দল থেকে পরিচিত হওয়ায় কোহলির বিপক্ষে খেলার সময় মাঠে আলাদা চাপ ও উত্তেজনা কাজ করত বলেও মন্তব্য করেন।
নিদাহাস ট্রফির একটি ম্যাচকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন রুবেল। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও বোলিং পরিকল্পনার ঘাটতি তাঁকে আজও কষ্ট দেয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় তারকাদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাও তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।
অবসরের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি রুবেল। তিনি জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়েও ভাবছেন তিনি। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই তাঁর প্রধান সম্পৃক্ততা থাকবে বলে জানান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রুবেল। বিশেষ করে বিসিবির নতুন সভাপতির ক্রিকেট অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ ভবিষ্যতে কাজে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
একই সঙ্গে দেশের পেস বোলিং প্রতিভা বিকাশে ‘পেসার হান্ট’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর আহ্বান জানান রুবেল। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমেই তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলামের মতো প্রতিভা উঠে এসেছে। নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে এই ধরনের কার্যক্রম আবার শুরু করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো রুবেল হোসেনের জন্য যেমন আবেগঘন মুহূর্ত, তেমনি নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা, সাফল্য-ব্যর্থতার স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—সবকিছুকে সঙ্গে নিয়েই তিনি এখন ঘরোয়া ক্রিকেট ও সম্ভাব্য নতুন পেশাগত পথে এগিয়ে যেতে চান।