খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন তার সম্মুখ সমরে এক অভিনব ও বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বুধবার জানিয়েছেন, রুশ আত্মঘাতী ও নজরদারি ড্রোনের হাত থেকে সামরিক সরবরাহ পথ এবং বেসামরিক জানমাল রক্ষায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশেষ ড্রোন প্রতিরোধী জাল স্থাপন করা হবে।
বর্তমানে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনী দূরনিয়ন্ত্রিত এই উড়োজাহাজ ব্যবহার করে ইউক্রেনের সম্মুখ সমরের পেছনের ঘাঁটি, সামরিক রসদ সরবরাহকারী যান এবং এমনকি হাসপাতাল ও বেসামরিক অবকাঠামোতেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ফেদোরভ জানান, এই বিশেষ সুরক্ষা জালগুলো মূলত ড্রোনের প্রপেলার বা পাখা আটকে দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে। এটি ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, ফলে মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম এবং মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
এই বিশাল প্রতিরক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউক্রেনীয় সরকার বড় অংকের আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছে। ড্রোন মোকাবিলার এই সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অতিরিক্ত ১.৬ বিলিয়ন হৃভনিয়া (প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার এই জাল স্থাপনের কাজকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
নিচে প্রতিরক্ষা জাল স্থাপনের বর্তমান অগ্রগতি ও লক্ষ্যমাত্রা একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | দৈনিক জাল স্থাপনের হার (কিমি) | লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি |
| জানুয়ারি ২০২৬ | ৫ কিলোমিটার | প্রকল্পের প্রাথমিক সূচনা ও পরীক্ষা |
| ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২ কিলোমিটার | কাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি |
| মার্চ ২০২৬ (পরিকল্পিত) | ২০ কিলোমিটার | প্রযুক্তি ও জনবল বৃদ্ধি |
| ডিসেম্বর ২০২৬ (চূড়ান্ত লক্ষ্য) | মোট ৪,০০০ কিলোমিটার | সম্মুখ সমরের সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সুরক্ষা |
মিখাইলো ফেদোরভ তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, “মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমরা দৈনিক কাজ করার সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছি। ফেব্রুয়ারি নাগাদ ১২ কিলোমিটার গতিতে কাজ করায় সম্মুখ সমরের পেছনের জনপদগুলোর স্থিতিশীলতা এবং সামরিক চলাচলের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বেড়েছে।” তিনি আরও জানান যে, এই সুরক্ষা ব্যবস্থা শুধু সড়কের ওপরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
রাশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ ও সুমি অঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের কাজও সমান্তরালভাবে ত্বরান্বিত করা হবে। ইউক্রেনের এই ‘ড্রোন সিল্ড’ বা ড্রোন সুরক্ষা জাল ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি রাশিয়ার সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী ড্রোনগুলোর বিরুদ্ধে একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর প্রাচীর হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের এই উদ্যোগ আধুনিক যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। বিশাল এবং ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এ ধরনের যান্ত্রিক বা ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার ড্রোন যুদ্ধের এই যুগে ছোট কিন্তু গতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অত্যন্ত উপযোগী। তবে চার হাজার কিলোমিটারের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে দেশটিকে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং চলমান যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের অস্থিরতার মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।