নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় বসতবাড়ি ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক নয়টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সরকার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত আটজন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় শাহাদাত হোসেন আকাশ নামে এক ব্যক্তি একটি জায়গা ভাড়া নিয়ে অটোরিকশা গ্যারেজ পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী কিশোর দলের নেতা রকি, মিজান, ইছহাক, রিফাত, পারভেজ ও ইকবালের নেতৃত্বে একদল লোক গ্যারেজের সামনে নিয়মিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত। এরই প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার রাতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্যারেজ ও পার্শ্ববর্তী বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে, পরে একপর্যায়ে ভাঙচুর শুরু করে। গ্যারেজে থাকা অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং কিছু মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে বাড়ির সদস্য ও প্রতিবেশীদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। এতে শাহাদাত হোসেন আকাশসহ অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
আহতদের তালিকা
| ক্রম |
নাম |
অবস্থা |
| ১ |
কুলসুম বেগম |
গুরুতর আহত |
| ২ |
শাহিদা বেগম |
আহত |
| ৩ |
শুভ |
আহত |
| ৪ |
ফারুক |
গুরুতর আহত |
| ৫ |
জয় |
আহত |
| ৬ |
শিমুল |
আহত |
| ৭ |
হাসান |
গুরুতর আহত |
| ৮ |
শহিদ মিয়া |
আহত |
ভুক্তভোগী আলেয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী দলটি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট দলীয় সংঘর্ষ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।