খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে মাঘ ১৪৩২ | ১৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় নির্বাচনের আমেজ এবং দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলনে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ১৭০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের প্রবাসী আয় এসেছে। শতাংশের হিসেবে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই আয়ের পরিমাণ প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার সমান।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় বর্তমান অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। নিচে এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো:
| সময়কাল | প্রবাসী আয়ের পরিমাণ (মার্কিন ডলার) | আয়ের প্রবৃদ্ধি/অবস্থান |
| ২০২৫-২৬ অর্থবছর (জুলাই-১৪ জানুয়ারি) | ১,৭৯৬ কোটি ডলার | ২১.৬% প্রবৃদ্ধি |
| ২০২৪-২৫ অর্থবছর (একই সময়) | ১,৪৭৮ কোটি ডলার | তুলনামূলক কম প্রবাহ |
| ২০২৫ (পুরো বছর) | ৩,২৮২ কোটি ডলার | ঐতিহাসিক মাইলফলক |
| ২০২৪ সালের নভেম্বর | ২৮৯ কোটি ডলার | স্থিতিশীল পর্যায় |
| ২০২৪ সালের ডিসেম্বর | ৩২২ কোটি ডলার | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি খরচ মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে আসছে। দ্বিতীয়ত, রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসীরা এখন থেকেই সঞ্চিত অর্থ পরিবারের কাছে পাঠাতে শুরু করেছেন। অনেক দেশে প্রবাসীরা প্রার্থীর অনুকূলে তহবিল সংগ্রহ করছেন, যা বৈধ চ্যানেলে দেশে আসায় ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ছে।
২০২১ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক সংকটে তা তলানিতে নেমেছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে পট পরিবর্তনের সময় রিজার্ভ কমে ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যার ফলে ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে বর্তমানে প্রবাসী আয়ের কল্যাণে রিজার্ভ পুনরায় ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল করেছে এবং প্রতি ডলারের দাম ১২২-১২৩ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, নির্বাচনের আমেজ এবং পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাস থাকায় আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। প্রবাসীরা হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নেওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে রিজার্ভের স্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা দেশের আমদানিকারকদের জন্য স্বস্তির সংবাদ বয়ে আনবে।