লক্ষ্মীপুরে টেলিভিশন দেখার কথা বলে পাশের বাসার আট বছর বয়সী এক শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরদিন রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে তাকে লক্ষ্মীপুরের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মজুপুর এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকে। অভিযুক্ত কিশোরও একই এলাকার পাশের একটি বাসায় বসবাস করে। পাশাপাশি বাড়িতে থাকার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচিতি ছিল।
শনিবার রাতে টেলিভিশন দেখার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নেয় ওই কিশোর। কিছুক্ষণ পর শিশুটির চিৎকার শুনতে পান তার মা। এ সময় তিনি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে ঘরের ভেতরে আপত্তিকর পরিস্থিতি দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে বিষয়টি জানান।
মায়ের চিৎকার ও পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিম আফজাল জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় সমাজের সচেতন ভূমিকা কতটা জরুরি, এ ঘটনা আবারও সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিশুদের পরিচিত পরিবেশেও যেন তারা ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তবে অভিযুক্তের বয়স ১৩ বছর হওয়ায় বিষয়টি আইনগতভাবে শিশু-আদালত ও শিশু আইনসংক্রান্ত বিধানের আওতায় বিবেচিত হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় শিশুর পরিচয় প্রকাশ বা তাকে বিব্রত করে এমন কোনো তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত।


