খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
একটি অনলাইন কোচিং সেন্টারে শিক্ষক ও শিক্ষিকার অনৈতিক আচরণের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ‘অন্বেষণ’ নামের ওই কোচিং প্ল্যাটফর্মে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ক একটি লাইভ ক্লাস চলাকালে শিক্ষক ও শিক্ষিকা হঠাৎ করে অন্তরঙ্গ আচরণে জড়িয়ে পড়েন। এই দৃশ্য সরাসরি লাইভে দেখেন শিক্ষার্থীরা। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়।
একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লেখেন, “এমন দৃশ্য এতদিন শুধু বিদেশি পত্রিকায় পড়তাম। ভাবতেই পারিনি বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটবে।”
ঘটনার পর অন্বেষণ কোচিং সেন্টার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানায়, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট থানায় ক্ষতিপূরণ দাবি করে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের একটি অনুলিপি সামাজিক মাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে।
কোচিং কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “অন্বেষণ সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব।”
অন্বেষণের দুই কর্ণধার হাসিবুল হাসান আকাশ ও সেজান আহমেদ অর্ক সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা জানান, “অন্বেষণ মূলত আর্টসভিত্তিক কোচিং হলেও শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় কমার্স বিভাগে কিছু ক্লাস চালু করা হয়েছিল। সেখানেই ওই দুই শিক্ষকের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। তাদের হাতে স্টুডিও ও অন্বেষণের ইউটিউব অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছিল, ক্লাস পরিচালনার সময় আমরা কেউ উপস্থিত ছিলাম না।”
তারা আরও বলেন, “এই দুইজনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই স্বল্পমেয়াদি ছিল। তাদের অপেশাদার আচরণে আমরাও গভীরভাবে বিব্রত ও লজ্জিত। যদিও ঘটনাটি আমাদের উপস্থিতিতে ঘটেনি, তবে যেহেতু আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে তা সম্প্রচারিত হয়েছে, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাই আমরা তাদেরকে অন্বেষণের সব কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখব না।”
বিবৃতিতে তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই দুঃসময়েও আমরা আপনাদের সমর্থন চাই। অন্বেষণ সবসময়ই শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে, আগামীতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমাদের ভুল বুঝবেন না।”
তবে অনেক নেটিজেনই এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তারা মনে করছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্ল্যাটফর্মে এমন অনৈতিকতা মেনে নেওয়া যায় না এবং এর জন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
খবরওয়ালা/এমএজেড