খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে পৌষ ১৪৩২ | ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কিংবদন্তি লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো তার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তার হাতেগড়া সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’। অনুষ্ঠানটি আগামীকাল মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
মূলত এই অনুষ্ঠানটি গত ৩১ ডিসেম্বর, ফরিদা পারভীনের ৭১তম জন্মদিনে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে তখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোকের কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফরিদা পারভীনের স্বামী এবং প্রখ্যাত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম জানিয়েছেন, শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। সভাপতিত্ব করবেন গাজী আবদুল হাকিম নিজেই।
ফরিদা পারভীনের জীবন ও সংগীত যাত্রা ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুল সংগীত পরিবেশন করে তার সংগীতজগতে পা রাখেন। তিনি দেশাত্মবোধক গান ও লালনসংগীতে নিজস্ব স্বকীয়তা তৈরি করেন। লালনসংগীতে তার প্রশিক্ষণ ছিল সাধক মোকসেদ আলী শাহের তত্ত্বাবধানে।
| পুরস্কার / স্বীকৃতি | সাল | বিবরণ |
|---|---|---|
| একুশে পদক | ১৯৮৭ | রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সাংস্কৃতিক সম্মাননা |
| জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার | ১৯৯৩ | সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে |
| ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কার | ২০০৮ | জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি |
এই স্মরণানুষ্ঠান শুধু অতীতের সাফল্যকে উদযাপন নয়, বরং ফরিদা পারভীনের সংগীত ও সাধনার উত্তরাধিকারকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গুরুত্ব পাবে। অনুষ্ঠানটি সংগীতপ্রেমী ও শিল্পকলা মহলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে, যেখানে তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হবে।