খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এক অভাবনীয় মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি জানান যে, তিনি নিজের ইচ্ছায় বা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তার এই অকপট স্বীকারোক্তি বর্তমানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে চমক হিসেবে আসেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি দেশের ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ড. খলিলুর রহমান। নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধী দলগুলোর ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, “আমি তো নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হইনি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ যারা করছে, তারা চাইলে আবার ভোট গণনা করে দেখুক।” তার এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং একই সাথে তিনি দায়িত্বটি কেবল রাষ্ট্রের প্রয়োজনে গ্রহণ করেছেন বলে ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন।
নতুন সরকারের রাজনৈতিক সমীকরণ ও মন্ত্রিসভার বিন্যাস নিচে একটি সংক্ষিপ্ত টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী | ড. খলিলুর রহমান |
| নিয়োগের ধরণ | টেকনোক্র্যাট কোটা |
| পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা | অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা |
| নির্বাচনের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| বিজয়ী দল | বিএনপি (দুই-তৃতীয়াংশ আসন) |
| প্রথম কর্মদিবস | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার) |
একজন পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষক। তবে তার সামনে এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রথমত, বিরোধী দলগুলোর কারচুপির অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করা এবং দ্বিতীয়ত, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা।
প্রথম কর্মদিবসেই তিনি তার দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি বদ্ধপরিকর। তবে তার ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে মন্ত্রী হওয়া’র বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটিই প্রমাণ করে যে, বিএনপি সরকার দক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে চাইছে।
সার্বিকভাবে, ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দিনের বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে দিলেও, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তার পূর্বের সুসম্পর্ক বর্তমান সরকারের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।