খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পিতৃত্বকালীন ছুটি আলাদা করে প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটির সঙ্গে পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রসঙ্গ আসছে। তবে তার মতে, আলাদা ছুটির দরকার নেই। যদি দেওয়া হয়, তাহলে শর্তসাপেক্ষে দিতে হবে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কর্মশালার আয়োজন করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ)। এ বছরের প্রতিপাদ্য— মাতৃদুগ্ধপানকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলুন।
তিন শর্তের বিষয়ে নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি নিজেও মা। আমার মনে হয় না আলাদা পিতৃত্বকালীন ছুটি দরকার আছে। তবে যদি দেয়া হয়, শর্ত থাকবে—পিতা কতক্ষণ শিশুকে দেখেছেন, যত্ন নিয়েছেন এবং মাকে সাহায্য করেছেন—এসব লিখিতভাবে জানাতে হবে।’
মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিশুদের গুঁড়া দুধের দিকে ঠেলে না দিয়ে মাতৃদুগ্ধের প্রচলন বাড়াতে হবে। এজন্য চিকিৎসক, এনজিও, ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে গণমাধ্যম—সবার অংশগ্রহণ জরুরি।
কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস কে রায়। তিনি জানান, দেশে মাতৃদুগ্ধপানের হার ক্রমেই কমছে। ২০১৭-১৮ সালে প্রথম ছয় মাসে একচেটিয়াভাবে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জরিপে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে। তার মতে, এর পেছনে রয়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ঘাটতি, বিএমএস আইন বাস্তবায়নের অভাব এবং কর্মজীবী মায়েদের পর্যাপ্ত ছুটি না পাওয়া।
সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সরোয়ার বারী বলেন, মেধাসম্পন্ন জাতি গড়তে চাইলে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন এবং বিবিএফের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম।
এদিকে, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন পূর্ণ বেতনে দুই সপ্তাহের পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন