খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান অনন্য। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শহীদ আলতাফ মাহমুদ, যিনি সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং মুক্তিকামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক সাহসী যোদ্ধা হিসেবে খ্যাত।
আলতাফ মাহমুদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার মুলাদী থানার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তিনি গান, সুর ও শিল্পচর্চার প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। পরিবার থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকায় এসে সংগীতের উপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তিনি প্রথমে ক্ল্যাসিক্যাল ও লোকসংগীতে পারদর্শীতা অর্জন করেন এবং পরে চলচ্চিত্র সংগীতে সুরারোপ করেন। ১৯৫০-এর দশক থেকে তিনি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
তার জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান হলো “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানের সুরারোপ। ভাষা আন্দোলনের এই অমর গানের সুর তিনি ১৯৭০ সালে নতুনভাবে পরিবেশনযোগ্য করেন, যা এখনো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে জাতীয় সকল অনুষ্ঠানে ধ্বনিত হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না; ছিলেন মুক্তিকামী এক সাংস্কৃতিক যোদ্ধা। ঢাকা শহরে পাকিস্তানি সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি মুক্তিকামী শিল্পীদের সংগঠিত করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে তহবিল সংগ্রহ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তবে এই সাহসী ভূমিকার কারণে তিনি পাকিস্তানি সেনাদের নজরে আসেন। আগস্ট মাসে এক অভিযানে তাকে আটক করে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে গোপনে দাফন করা হয়।
আলতাফ মাহমুদ বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অসংখ্য গান ও সুর তৈরি করেছেন। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক সংগ্রামকে সংগীতে ধারণ করেছেন।
তার সুরারোপিত গান আজও সংগ্রামী চেতনা ও দেশপ্রেম জাগায়।
শহীদ আলতাফ মাহমুদের জীবন এক অনন্য উদাহরণ—যেখানে শিল্পকলা, দেশপ্রেম ও ত্যাগ একসূত্রে গাঁথা। তিনি প্রমাণ করেছেন, সুর ও গানের মাধ্যমেও মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া যায়। তার আত্মত্যাগ ও সুরের ধ্বনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্বাধীনতার প্রেরণা জাগিয়ে রাখবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড