খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনারে নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং জনসমাগম ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।
কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি সড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শহীদ মিনারে প্রবেশের জন্য পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং এবং শহীদ মিনার রোড ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো পথ দিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়েল চত্বর বা চাঁনখানপুল দিয়ে নিরাপদভাবে বের হতে হবে।”
সেখানে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কমিশনার আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের পর সাধারণ জনসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত থাকবে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হয়েছে। কমিশনার জানিয়েছেন, প্রায় ১৫,০০০ পুলিশ সদস্য সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সোয়াট দল, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
নিচের টেবিলে শহীদ মিনারে প্রবেশ ও প্রস্থান সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিভাগ | নির্দেশনা / তথ্য |
|---|---|
| প্রবেশপথ | পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং, শহীদ মিনার রোড |
| প্রস্থানপথ | দোয়েল চত্বর, চাঁনখানপুল |
| নিষিদ্ধ জিনিসপত্র | ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ |
| প্রথম শ্রেণির অতিথি | রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক |
| জনসাধারণ প্রবেশ সময় | রাত ১২:৪০ মিনিটের পর |
| নিরাপত্তা কর্মী সংখ্যা | ১৫,০০০ পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা |
| বিশেষ দল | সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড |
কমিশনার নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত থাকায় এই দুই দিবসের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আগত নাগরিকদের জন্য এই সতর্কতা ও নির্দেশনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এতে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি জনসাধারণের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।