খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে চৈত্র ১৪৩১ | ২৬ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, সংগীতজ্ঞ এবং ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সন্জীদা খাতুনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (২৬ মার্চ) শহীদ মিনারে সমবেত হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশের শীর্ষ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ সেখানে উপস্থিত হন।
বেলা আড়াইটায় সন্জীদা খাতুনের কফিন শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে শিল্পীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গান, কবিতা এবং ফুল দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এই সময় ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ সহ বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সন্জীদা খাতুনকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে ভিড় করেছিলেন অনেকে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন সন্জীদা খাতুন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সন্জীদা খাতুনের পুত্রবধূ এবং রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, ‘তিনি আজ বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু তার দেখানো পথ ও শক্তি যেন আমরা ধারণ করতে পারি এবং এগিয়ে যেতে পারি।’ পরে তিনি ‘আছে দুঃখ আছে মৃত্যু’ গানটি গেয়ে শোনান, গানটি গাওয়ার সময় তাঁর গলা ধরে আসে।
সংগীতশিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী সন্জীদা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি হাজার হাজার ছেলেমেয়ের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন। এটা অনেক বড় পাওয়া।’
ছায়ানটের ‘মিনু আপা’ নামে পরিচিত সন্জীদা খাতুনকে স্মরণ করে আবৃত্তিকার ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তিনি ছিলেন বটবৃক্ষ, আমাদের ছায়া দিতেন। সেই ছায়াটা সরে গেল। ১৯৭১ সালে উনাকে কলকাতায় দেখেছি, তিনি বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার একজন প্রধান সংগঠক ছিলেন।’
সন্জীদা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী, কণ্ঠশীলনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন উপস্থিত ছিল।
সন্জীদা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, অভিনেতা-নির্দেশক তারিক আনাম খান, নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, অভিনেতা ঝুনা চৌধুরী, অভিনেত্রী আফসানা মিমি, সংগীতশিল্পী ফারহিন খান জয়িতা ও আরও অনেকেই।
এর আগে সন্জীদা খাতুনকে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিন সন্জীদা খাতুনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তার পরিবার অনেকেই বিদেশে থাকায়, তারা ফিরে আসলে দাফনের কার্যক্রম শুরু হবে।
সন্জীদা খাতুন ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক, ১৯৫৫ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন তিনি।
সন্জীদা খাতুন তাঁর জীবনে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন, বিশেষ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
খবরওয়ালা/আরডি