খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩২ | ৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত পর্যন্ত আরও ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা শেষ দুই দিনের মধ্যে ঘটে, যা বিমানবন্দর চলাচলে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের আগমন ও বহির্গমন ফ্লাইট। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান এয়ারফিল্ড—দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহা—অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকায় এ ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা ও এয়ারলাইন্স:
| এয়ারলাইনস | আগমন ফ্লাইট বাতিল | বহির্গমন ফ্লাইট বাতিল |
|---|---|---|
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস | ১ | ১ |
| এয়ার আরাবিয়া | ২ | ২ |
| সালাম এয়ার | ১ | ১ |
| মোট | ৪ | ৪ |
তবে একই সময়ে ৫টি আগমন এবং ৩টি বহির্গমন ফ্লাইট অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে চালু ছিল, যা সীমিত হলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে কিছুটা সচল রাখে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া এবং ইউএস-বাংলার ফ্লাইটগুলোর স্থবিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই স্থবিরতা থেকে বোঝা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বিমানবন্দর প্রশাসনের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। যাত্রীরা বিকল্প ভ্রমণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং বিমানবন্দর কর্মচারীরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োগে ব্যস্ত রয়েছেন।
প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ২৭৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইট ও তথ্য সহায়তা প্রদান করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। যাত্রী ও বাণিজ্যিক যাত্রাপথে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করে সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রীদের সহায়তা নিশ্চিত করছে।
ফলে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরাসরি বাংলাদেশের বিমান চলাচল ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপদ ও কার্যকর বিমান চলাচলের জন্য আন্তর্জাতিক সতর্কতা, বিকল্প রুট পরিকল্পনা এবং যাত্রীদের প্রতি সতর্ক বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।