খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ পাঁচ শতাধিক অভিযোগ পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের গ্রেপ্তারকৃত শীর্ষ ১৭ নেতা ও ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ছয়টি মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় সাক্ষ্য দেবেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, গবেষক বদরুদ্দীন উমর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান, নাহিদ ইসলাম, উমামা ফাতেমাসহ ‘জুলাই আন্দোলন’-এর আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
তবে সাক্ষীদের মধ্যে অন্যতম বদরুদ্দীন উমর। তার বর্তমান বয়স ৯৫। প্রায় শতবর্ষী একজন মানুষের আদালতে সাক্ষ্যের জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বার্ধক্যের কারণে তার সাক্ষ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেও হয়েছেন ‘বিতর্কিত’।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে ‘খ্যাতিমান’ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে নানান অভিযোগ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তাঁর পত্রিকা ‘আমার দেশ’র মাধ্যমে গুজব প্রচার করে আসছেন।
২০১৩ সালে মক্কা শরীফের ইমাম পরিষদের মানববন্ধন নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান সম্পাদিত ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটি গুজবপ্রচারকারী পত্রিকা হিসেবে পরিচিতি পায়। ওই সংবাদে দাবি করা হয়, ‘বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালের নামে বাংলাদেশের আলেমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে মক্কার ইমাম পরিষদ।’ তবে পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় যে, সংবাদটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এছাড়া, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চ নিয়েও ‘আমার দেশ’ অসংখ্য গুজব ছড়ায় এবং এই আন্দোলনকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালায়।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে উত্তরায় বসে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
এছাড়া, সাক্ষী উমামা ফাতেমাও জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকলেও বর্তমানে তিনি জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বর্তমানে কোনও জুলাই আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে নেই।
এসব বিতর্কিত, বয়োজ্যেষ্ঠ সাক্ষীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিচার কার্যক্রম কতটা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে, তা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং সংশয় তৈরি হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড