খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্যের ঝুলিতে ছিল মাত্র একটি জয়—৪ জুন ঢাকায় ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পাওয়া সেই একমাত্র স্বস্তি। নেপালের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার রাতের প্রীতি ম্যাচটি হতে পারত বছরের দ্বিতীয় জয়। ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত হামজা চৌধুরীর জোড়া গোলে ২–১ ব্যবধানে এগিয়েও যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল হজম করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাভিয়ের কাবরেরার দলকে। মুঠোর ভেতর থাকা জয় শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হওয়ায় বাড়তি হতাশা তৈরি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।
এর আগেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। গত অক্টোবরে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিটে গোল হজম করে ৪–৩ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ, যদিও ম্যাচটির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্কোর ছিল ৩–৩। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শেষ মুহূর্তে বারবার গোল হজম করার পেছনে কী কারণ? মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ নাকি ট্যাকটিক্যাল সমস্যা—কোনটি দায়ী?
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তিনি মানসিক দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে মানতে নারাজ। বরং তিনি দাবি করেন, দল শেষ সময়ের ডিফেন্ডিং নিয়ে প্রচুর অনুশীলন করে থাকে। তাঁর ভাষায়,
“আমি বলব না এটা মানসিক সমস্যা। অনুশীলন ও ম্যাচে আমরা শত শত বার এই ধরনের আক্রমণ ঠেকানোর চর্চা করি। যে কোনো ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। হ্যাঁ, সাম্প্রতিক সময়ে বারবার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটাকে মানসিক সমস্যা মনে করি না।”
খেলোয়াড়দের মনোযোগ কমে যাওয়া প্রসঙ্গেও কাবরেরার মত আলাদা। তিনি বলেন,
“ফুটবলাররা শুধু ২৫ মিনিট নয়, বরং ৯৫–১০০ মিনিট ডিফেন্ড করার মতো মনোযোগ নিয়েই খেলতে নামে। আমরা গোল রক্ষা করতে যা করতে হয় সবই করি। একইভাবে প্রতিপক্ষও গোল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। শেষ মুহূর্তের চাপ—এটা দুই পক্ষের জন্যই একই রকম।”
ফিফা প্রীতি ম্যাচ হিসেবে নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তেমন কোনো পয়েন্টের লড়াই ছিল না। তবে পরের ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—আগামী মঙ্গলবার ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। শেষ মুহূর্তে গোল হজমের পুনরাবৃত্তি রোধে কাবরেরা ভিডিও অ্যানালাইসিসের ওপর জোর দিচ্ছেন।
“আমরা ভুলগুলো বিশ্লেষণ করব, ভিডিও দেখে প্রস্তুতি নেব। ভারতের বিপক্ষে যেন এমন না হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। হাতে চার দিন সময় আছে; এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে চাই।”