খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট থেকে ২০২৪ সালে অবসরে গিয়েছেন বিরাট কোহলি। এরপর আইপিএল ছাড়া অন্য কোনো লিগেও খেলেন না। গত বছরের জুনে আইপিএল ফাইনালের পর দীর্ঘ বিরতির পরই তিনি আবার মাঠে নেমেছেন। রবিবারের ম্যাচ ছিল তাই কোহলির জন্য ১০ মাস পর প্রথম টি-টুয়েন্টি প্রতিযোগিতা।
তবু, বিরতির সময়ও তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার কমেনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই কোহলি খেলেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাঁর এই ইনিংসের সাহায্যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২৬ বল হাতে রেখেই ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়লাভ করে।
ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন,
“গত ১৫ বছরে আমাদের সূচি এবং আমি যতটুকু ক্রিকেট খেলেছি, তার তুলনায় আমার জন্য প্রস্তুতির অভাব হওয়ার চেয়ে ক্লান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই বিরতিগুলো আমাকে সতেজ রাখে। যখনই খেলায় ফিরি, সেটা ১২০ শতাংশ শক্তি নিয়েই ফিরি। প্রস্তুতির ঘাটতি নেই।”
এই ম্যাচটি কোহলির জন্য কেবল ফিরে আসা নয়, বরং রেকর্ডেরও। ২০০৮ থেকে শুরু হওয়া ১৯টি আইপিএল আসরে কোহলি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিটি আসরে খেলেছেন। একই ম্যাচে তিনি আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন—আইপিএলে ফিফটির পথে রানতাড়ায় ৪০০০ রানের সীমা অতিক্রম করেছেন, যা কোনো ক্রিকেটারের আগে হয়নি।
নীচের টেবিলে কোহলির আইপিএল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টুয়েন্টি রানগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ফরম্যাট | মোট রান | উল্লেখযোগ্য রেকর্ড |
|---|---|---|
| আইপিএল (২০০৮–২০২৬) | ৮৭৩০ | সর্বোচ্চ মোট রান, প্রতিটি আসরে অংশগ্রহণ |
| ফিফটির সংখ্যা | ৬৪ | সবচেয়ে বেশি ফিফটি করা ভারতীয় ক্রিকেটার |
| ওয়ানডে (সর্বশেষ ২০২৫–২৬) | ৪১৯ | নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩টি ম্যাচে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক |
গত জানুয়ারিতে কোহলি ওয়ানডে খেলে ভারতের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রান করেন। ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩টি ওয়ানডেতে ৩০২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে, যদিও টি-টুয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন, খেলার ছন্দে আছেন তিনি।
রজত পতিদার, বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বলেন,
“বিরাট কোহলি আমাদের ১ নম্বর রানতাড়ার মাস্টার। তিনি যেভাবে শট নির্বাচন করেন এবং পরিস্থিতি বোঝেন, তা ডাগআউট থেকেও উপভোগ করি। নেটে যা দেখেছি, পারফর্ম করার আগ্রহ ও শক্তি এখনও অটুট।”
বিরাট কোহলির এই রেকর্ড ও পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, দীর্ঘ বিরতির পরেও তার ক্রিকেটীয় দক্ষতা ও মানসিক শক্তি আজও অতুলনীয়। আগামী আসরগুলোতে কোহলির এই জাদু আরও কত রেকর্ড সৃষ্টি করবে, তা ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে দেখবেন।