খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 29শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১২ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। বুধবার (১১ জুন) একটি ইউটিউব ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেশে এখন একটি গভীর শাসন সংকট চলছে, যেখানে প্রশাসনিক অচলাবস্থা, আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অনাস্থা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি একসঙ্গে ক্রিয়াশীল।
জিল্লুর রহমার বলেন, ‘পুরো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এক প্রকার নিয়ন্ত্রণহীনতা, অনাস্থা ও বিভ্রান্তির আবহ তৈরি হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ পড়ানোর বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সরকার এবং প্রশাসন বিষয়টিকে উচ্চ আদালতের বিচারাধীন বলে টেনে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে ইশরাকের শপথ অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে একটি অনির্বাচিত ও অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় নগরভবন কার্যত তালাবন্ধ করা রাখা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাংবিধানিক অধিকারী নয়, সাধারণ নাগরিকরাও বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা প্রবাহের সমান্তরালে আরো বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে। সরকারের শব্দ প্রণীত সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর বিরুদ্ধে কর্মচারীদের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এমনকি ২৫টি ক্যাডার কর্মকর্তা সংগঠন আন্ত-ক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ কলম বিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’
ওই সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক বলেন, ‘এই সরকারের বিরুদ্ধে আমলাতন্ত্র খুবই প্রতিক্রিয়াশীল ও সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছে যেটা একটি গভীর সংকেত। কারণ অতীতে সামরিক কিংবা জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের সময়ও আমলারা এই মাত্রায় সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। রাজনৈতিক মঞ্চে এ সময় বিএনপি একটা কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছে। একদিকে তারা ভার্চুয়াল বক্তৃতা সমাবেশ এবং তারুণ্য কেন্দ্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক সংহতি জোরদার করছে। অন্যদিকে সরকারের উপর ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের চাপ অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘যদিও প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মহম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন নির্বাচন আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিএনপি এবং তার মিত্রদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছে এক ধরনের অনাস্থা এবং সন্দেহ। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং রোডম্যাপহীনতা রাজনৈতিক পরিবেশকে অচল করে তুলছে।’
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খারাপের দিকে যাচ্ছে। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় খুন, ছিনতাই, সশস্ত্র হামলার মতো ঘটনা ঘটছে প্রকাশ্যে। কিন্তু পুলিশের প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত। এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের মধ্যে যে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে তাও কার্যকর হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সামনে দুটো পথ খেলা। প্রথমত অবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনগত দিক থেকে একটা স্বচ্ছ রোড ম্যাপ ঘোষণা করা যাতে নির্বাচন সংস্কার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত জনগণের সাথে এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ এবং সমঝোতা বাড়ানো যাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থা ফেরানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে এই সরকারের রাজনৈতিক মূলধন ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। একদিকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা অন্যদিকে আমলাতন্ত্রের বিরোধিতা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এক গভীর শাসন সংকটে পড়েছে।’
খবরওয়ালা/এসআর