খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় মুদ্রানীতির চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তাঁর মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা কার্যত নতুন অর্থ সৃষ্টি বা মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির সমতুল্য। এই ধরনের পদক্ষেপ বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কার্যালয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনাবিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।
আশিকুর রহমান তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে যাওয়া দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন বা ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক শর্তাবলি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সেমিনারে ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাত—গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, বিনিয়োগ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অন্যদিকে জাইদি সাত্তার বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি সব ধরনের পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অঞ্চলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচিত সরকারের অধীনে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
| সূচক | অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| সরকারী ঋণ (মার্চ) | প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা | বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গৃহীত |
| মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি | বৃদ্ধি সম্ভাবনা | মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে |
| বিনিয়োগ পরিবেশ | অনিশ্চিত | জ্বালানি সংকট ও নীতিগত দ্বিধা |
| ব্যাংক খাত সংস্কার | ধীরগতিতে | পুনর্গঠন প্রক্রিয়া পর্যালোচনাধীন |
| বৈশ্বিক প্রভাব | উচ্চ | জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা |
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ধার করা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বাজারে তারল্য বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে তা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সংস্কার না হলে আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একদিকে বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির চাপ—এই দুই চ্যালেঞ্জের মধ্যে অবস্থান করছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।