সঞ্চয়পত্র বিক্রি চালু রাখতে ব্যাংকগুলোকে কড়া নির্দেশ
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ৪:২৫ পিএম
সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কোনো ধরনের অনীহা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে গ্রাহকদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র–সংক্রান্ত গ্রাহক অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জোরদার করতে বলা হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে, অনেক ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রির অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের নানা কারণে সঞ্চয়পত্র কিনতে নিরুৎসাহিত করছে কিংবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে না। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে জানা গেছে, কিছু ব্যাংক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করছে। অথচ বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত তফসিলি ব্যাংকগুলো সঞ্চয়পত্র বিক্রির অনুমোদিত ইস্যু অফিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭–এর অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান, সেবার মান বজায় রাখা এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর রয়েছে। এ কারণে সব ব্যাংককে তাদের শাখা পর্যায়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকসেবার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি শাখাগুলোর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে গ্রাহকরা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত হলেও অন্য সঞ্চয়পত্রগুলোতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে।
সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্ষুদ্র ও মধ্যম আয়ের মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মেয়াদ পূর্তির ভিত্তিতে বর্তমানে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বার্ষিক মুনাফার হার প্রায় ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের কার্যালয়ের পাশাপাশি অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলো থেকেও এসব সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে এবং বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
মন্তব্য