প্রফেসর ড. মোহাঃ হাছানাত আলী
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
জ্ঞান থেকে জীবিকা, স্বপ্ন থেকে সক্ষমতার এক নতুন অভিযাত্রা হলো শিক্ষা।
বাংলাদেশের আকাশে প্রতিদিন অসংখ্য তরুণের স্বপ্ন উড়ে বেড়ায়। কেউ ডাক্তার হতে চায়, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসক, কেউবা গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণে হাঁটতে হাঁটতে তারা ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল পৃথিবীর কল্পনা করে। কিন্তু সময়ের নির্মম বাস্তবতা হলো—সেই স্বপ্নের অনেকগুলোই ডিগ্রির ফ্রেমে আটকে যায়, জীবিকার দরজায় পৌঁছাতে পারে না। সনদ আছে, কিন্তু দক্ষতা নেই; ডিগ্রি আছে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের উপযোগিতা নেই; উচ্চশিক্ষা আছে, কিন্তু কর্মজীবনের প্রস্তুতি নেই। ফলে উচ্চশিক্ষার বহু অর্জন আজ যেন মরুভূমির বালুচরে লেখা এক অসমাপ্ত কবিতা।
একসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞানচর্চার তীর্থস্থান। সেখানে মানুষ কেবল চাকরির জন্য নয়, চিন্তার মুক্তির জন্য যেত। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় শিক্ষা ও কর্মজীবনের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা—সবকিছু মিলে পৃথিবী এখন দক্ষতানির্ভর এক অর্থনীতিতে রূপ নিয়েছে। সেখানে কেবল পুঁথিগত জ্ঞান দিয়ে টিকে থাকা কঠিন। প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে শিক্ষাকে কর্মমুখী, যুগোপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক করা যায়।
আজ দেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে কর্মহীনতার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল, গবেষণা সংস্থা কিংবা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো অভিযোগ করছে—তারা দক্ষ মানবসম্পদ পাচ্ছে না। অর্থাৎ একদিকে শিক্ষিত বেকার, অন্যদিকে দক্ষতার ঘাটতি। এই বৈপরীত্যই আমাদের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে আনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে তরুণ শিক্ষিত বেকারের হার উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বহু শিক্ষার্থী চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। কারণ আমাদের অধিকাংশ শিক্ষাক্রম এখনো তত্ত্বকেন্দ্রিক, পরীক্ষানির্ভর এবং মুখস্থবিদ্যাভিত্তিক। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বইয়ের সংজ্ঞা মুখস্থ করতে পারে, কিন্তু বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তারা পরীক্ষায় ভালো ফল করে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
এই বাস্তবতা যেন এক করুণ বৈপরীত্যের গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আলো জ্বলে, কিন্তু সেই আলো অনেক সময় কর্মজীবনের অন্ধকার দূর করতে পারে না। তরুণেরা ডিগ্রির পাহাড় গড়ে, অথচ জীবিকার সেতু নির্মাণ করতে পারে না। ফলে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবাই এক ধরনের হতাশার মধ্যে পড়ে।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচ্ছিন্নতা। উন্নত বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাত একে অপরের অংশীদার। সেখানে শিক্ষাক্রম নির্ধারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতামত থাকে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ইন্টার্নশিপ করে, গবেষণাগার ও কারখানার মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে এমন বিষয় পড়ানো হয়, যার সঙ্গে বর্তমান চাকরির বাজারের চাহিদার খুব সামান্য সম্পর্ক রয়েছে। অথচ পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আজকের বিশ্বে ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন—এসব ক্ষেত্র নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সেই গতিতে নিজেদের রূপান্তর করতে পারেনি।
কর্মমুখী শিক্ষা মানে কেবল কারিগরি শিক্ষা নয়; এটি এমন এক সামগ্রিক শিক্ষা, যা শিক্ষার্থীকে জীবনের বাস্তবতা মোকাবিলার সক্ষমতা দেয়। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের জ্ঞানকে ব্যবহার করে সমাজে মূল্য সৃষ্টি করতে পারে, কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, সমস্যার সমাধান করতে পারে—সেই প্রস্তুতিই কর্মমুখী শিক্ষার মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ শিক্ষা হবে জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত, বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত, মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই পাঠ্যক্রমের মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। পাঠ্যসূচিকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে সেখানে বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের চর্চা থাকে। শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রজেক্টভিত্তিক মূল্যায়ন, ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা, ফিল্ডওয়ার্ক এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালু করা অত্যন্ত জরুরি। একজন শিক্ষার্থী যখন বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ করে, তখন সে কেবল জ্ঞান অর্জন করে না; বরং দায়িত্ববোধ, সময় ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ দক্ষতা ও পেশাগত আচরণও শেখে। এই অভিজ্ঞতা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। উন্নত দেশগুলোতে ইন্টার্নশিপ উচ্চ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশেও এটিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি। অনেক শিক্ষার্থী জানেই না, তার দক্ষতা কোন খাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। ফলে তারা দিকনির্দেশনার অভাবে বিভ্রান্ত হয়। যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, সিভি লেখা, সাক্ষাৎকার দক্ষতা, ভাষাগত দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তারা অনেক বেশি প্রস্তুত হয়ে বের হতে পারবে। আমাদের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণার সংস্কৃতিও দুর্বল। অথচ গবেষণা ছাড়া জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রযুক্তি, নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্প উন্নয়ন—এসব জাতীয় সমস্যার সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় উদ্যোক্তা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্র একা সবার চাকরি দিতে পারবে না। তাই শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার, উদ্ভাবনী গবেষণা তহবিল এবং উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ চালু করা যেতে পারে। তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা করতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক সমাজের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের তথ্যদাতা নন; তিনি একজন পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণাদাতা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাতা। তাই শিক্ষকদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একজন শিক্ষক যদি যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে হালনাগাদ না করেন, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদেরও আধুনিক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন না।
এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বও বিশাল। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলো তাদের জাতীয় বাজেটের বড় অংশ শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যয় করে। বাংলাদেশেও উচ্চ শিক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একটি বড় বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী এখন বিদেশমুখী। তারা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের আশায় দেশ ছাড়ছে। যদি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে মেধাপাচার অনেকাংশে কমে আসবে। বরং বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে পড়তে আসতে পারে। উচ্চ শিক্ষা তখন কেবল জাতীয় উন্নয়ন নয়, বৈশ্বিক সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দেবে। বর্তমান যুগে ভাষাগত দক্ষতা এবং ডিজিটাল দক্ষতা ছাড়া কর্মজগতে টিকে থাকা কঠিন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষ কিন্তু মূল্যবোধহীন মানুষ কখনো একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, কর্মমুখী শিক্ষা মানে মানবিক শিক্ষার অবমূল্যায়ন নয়। সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান—এসব বিষয় মানুষকে চিন্তার গভীরতা দেয়, মানবিকতা শেখায়, সভ্যতার আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রয়োজন হলো জ্ঞান ও দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা। শিক্ষা এমন হতে হবে, যেখানে একজন মানুষ একই সঙ্গে চিন্তাশীল, সৃজনশীল ও কর্মদক্ষ হয়ে উঠবে। আজকের পৃথিবী কেবল ডিগ্রির নয়; এটি সক্ষমতার পৃথিবী। এখানে টিকে থাকবে সেই জাতি, যারা তাদের তরুণদের দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে যদি সঠিক শিক্ষা, দক্ষতা ও সুযোগের মাধ্যমে বিকশিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ এক নতুন অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক যুগে প্রবেশ করতে পারবে।
একটি জাতির বিশ্ববিদ্যালয় তার ভবিষ্যতের আয়না। সেই আয়নায় যদি বেকারত্ব, হতাশা ও দক্ষতার সংকট প্রতিফলিত হয়, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু যদি সেই আয়নায় উদ্ভাবন, গবেষণা, কর্মদক্ষতা ও মানবিকতার দীপ্তি জ্বলে ওঠে, তাহলে জাতির অগ্রযাত্রাও আলোকিত হয়।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাই কেবল ডিগ্রি উৎপাদনের কারখানা নয়, মানবসম্পদ তৈরির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। সেখানে জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হবে জীবন, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হবে কর্ম, আর স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হবে বাস্তবতা। তখনই উচ্চ শিক্ষা সত্যিকার অর্থে জাতির উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ যেন ডিগ্রির পর হতাশার অন্ধকারে না হারিয়ে যায়—এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র, সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত অঙ্গীকার। কারণ একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ প্রজন্ম। সেই তরুণদের যদি আমরা কর্মদক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হবে আরও উজ্জ্বল, আরও শক্তিশালী, আরও মর্যাদাপূর্ণ। সময়ের দরজায় আজ এক নতুন প্রশ্ন কড়া নাড়ছে—আমরা কি এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব, যা শুধু সনদ নয়, সক্ষমতা দেবে; শুধু চাকরির স্বপ্ন নয়, জীবনের শক্তি দেবে; শুধু ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, জাতীয় অগ্রগতির পথও নির্মাণ করবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী বাংলাদেশের ভাগ্য।
আর সেই উত্তর খুঁজে পাওয়ার পথের নাম—কর্মমুখী, মানবিক ও যুগোপযোগী উচ্চ শিক্ষা।
লেখকঃ উপাচার্য, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়