খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
‘বাংলায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গা আছে’—এমন দাবিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নিউটাউনে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘যাঁরা বলেন বাংলায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গা আছে, তাঁরা যদি সত্যিই জানেন, তাহলে ঠিকানাটা দিন। কোথায় আছেন তাঁরা?’
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে অপমান করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, রোহিঙ্গারা তো মিয়ানমার থেকে এসেছে, তারা বাংলা বলবে কী করে? যারা এসব বলছে, তাদের ভাষাগত বাস্তবতা সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ থেকে সর্বশেষ উদ্বাস্তু এসেছে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে। তারা আজ ভারতের নাগরিক। এখন আর কেউ অবৈধভাবে ভারতে থাকতে পারেন না। তবে যদি কোনো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকার কাউকে আশ্রয় দেয়, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু তাই বলে সব বাঙালিকে বাংলাদেশি বলার তো কোনো মানে নেই।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে বাঙালি ভাষাভাষী ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘বাংলার বিভিন্ন জেলায় বিভিন্নভাবে বাংলা বলা হয়। তাই বলে তাদের বাংলাদেশি বলে হয়রানি করা হবে? আপনি কে যে ১৭ লাখ নাম কেটে দেবেন? কে ভোট দেবে আর কে দেবে না, তা ঠিক করার আপনি কে? ভারতের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে। বাংলা বলা মানেই তো কেউ বাংলাদেশি নয়!’
মমতা আরও বলেন, ‘একজন নেতাকে অবশ্যই উদার মনের হতে হবে। আপনি যদি একটি দেশের সরকার চালান, তাহলে প্রথমে আপনার মনকে উন্মুক্ত করতে হবে। যেহেতু রাজনীতিবিদেরা সরকার চালান, তাঁরা যদি উদার না হন, তবে তাঁরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবেন না। সরকার চালানোর জন্য আপনার একটি উন্মুক্ত মন থাকতে হবে।’
হিন্দি ভাষার আধিপত্যের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘ওরা একটা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে—যারা বাংলা বলে, তাদের তাড়িয়ে দাও! কেন? ওরা জানেই না, বাংলা এশিয়ার দ্বিতীয় ও বিশ্বের পঞ্চম সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা। আমি অনেক ভাষা জানি, কারণ, ভাষা জানা মানেই শেখা। তাহলে একটা ভাষার বিরুদ্ধে এত বিদ্বেষ কেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা থেকে বহু শ্রমিক দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে কাজ করছেন, কারণ, তাঁদের দক্ষতার কদর রয়েছে। বাইরের রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি মানুষ এখানে কাজ করছেন, তাতে আমি খুশি। ভারতের নাগরিকেরা দেশজুড়ে যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারেন। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া উচিত।’
খবরওয়ালা/এন