খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন চরমে পৌঁছেছে, যখন সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে ইরানের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো—কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—উপর বৃহৎ মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে কাতারে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। এই হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরাও রয়েছেন।
কাতারের রাজধানী দোহায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশজুড়ে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। প্রাথমিকভাবে হুমকির মাত্রা কমিয়ে আনা হলেও পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামার দক্ষিণের সিতরা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছেন। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংসাবশেষ মোকাবিলা করছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অব্যাহতভাবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য উর্ধ্বগতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে হামলার জবাবের পরিকল্পনা চলছে।
নিচে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | কাতার | বাহরাইন | সংযুক্ত আরব আমিরাত |
|---|---|---|---|
| হামলার সময় | রাত ৩টা ১৫ মিনিট | রাতভর | রাতভর ও সকাল পর্যন্ত |
| হামলার ধরন | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন | ড্রোন | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন |
| আহত সংখ্যা | অজানা (প্রাথমিক) | ৩২ জন | অজানা |
| প্রতিক্রিয়া | ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার, হুমকি কমানো | চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা | আকাশ প্রতিরক্ষা, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা |
| প্রধান লক্ষ্য | নাগরিক এলাকা ও সম্ভাব্য সামরিক স্থাপনা | সিতরা এলাকা | ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকা |
| প্রভাব | স্থানীয় আতঙ্ক, জননিরাপত্তা ঝুঁকি | আহত ও শিশু-কিশোর অন্তর্ভুক্ত | স্থল ও আকাশ নিরাপত্তা সতর্কতা বৃদ্ধি |
উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ইরানের এই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ছায়াযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ধাবিত করতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কূটনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।