খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সমাগত। পুরোনো বছরের সমস্ত জরা ও গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সারা দেশে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গ্রাম বাংলার বৈশাখী মেলা থেকে শুরু করে নগর জীবনের মঙ্গল শোভাযাত্রা—সর্বত্রই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে এই আনন্দ আয়োজনের মাঝে জনমনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তাপপ্রবাহ নিয়ে কিছুটা উৎকণ্ঠা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নববর্ষের উৎসবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকলেও কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের একটি বড় অংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী ও ফরিদপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যা ছিল ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমের কারণে সাধারণ জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে, যা পহেলা বৈশাখের দিনও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের ভাষ্যমতে, পহেলা বৈশাখে সারা দেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকলেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না; বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে সিলেট বিভাগে বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ক্ষীণ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
নিচে পহেলা বৈশাখের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতির একটি তালিকা প্রদান করা হলো:
| অঞ্চলের নাম | সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি | বৃষ্টির সম্ভাবনা |
| ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা | মৃদু তাপপ্রবাহ ও আংশিক মেঘলা আকাশ | খুবই কম (বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে) |
| রাজশাহী ও পাবনা | মাঝারি তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া | নেই |
| খুলনা বিভাগ (১০ জেলা) | মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ | নেই |
| সিলেট বিভাগ | মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিপাত | অধিক সম্ভাবনা |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | আংশিক মেঘলা আকাশ | ক্ষীণ সম্ভাবনা |
| বরিশাল বিভাগ | আংশিক মেঘলা আকাশ | ক্ষীণ সম্ভাবনা |
| রংপুর ও ময়মনসিংহ | শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া | নেই |
প্রাকৃতিক বৈরিতা বা তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা থাকলেও বাঙালির উৎসবে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ দেশের প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মৃৎশিল্পীরা মাটির সরা, পুতুল ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রামগঞ্জে মেলা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের এই ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, তাই উৎসবের দিন পর্যাপ্ত সতর্কতা ও পানীয় জল সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মূলত গরমের তীব্রতা থাকলেও বড় ধরনের কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা আপাতত কম।