নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পরবর্তী বিশেষ অভিযানে শামীমের স্ত্রীসহ মোট ১৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো এলাকায় এ ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৪ মে) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এলাকাটিতে হত্যা, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যা, অস্ত্র, মাদক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলাসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা এবং একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এদিন রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর শামীম মিয়াকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় তার অনুসারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে, গাড়ির চাকা কেটে দেয় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয় এবং হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে শামীম মিয়াকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে পড়া সদস্যদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে দ্রুত অভিযান চালিয়ে শামীম মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তারসহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক তথ্য
| ক্রম |
নাম |
সম্পর্ক/পরিচয় |
ভূমিকা |
| ১ |
সাথী আক্তার |
শামীম মিয়ার স্ত্রী |
ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আটক |
| ২-১৩ |
নাম অপ্রকাশিত |
স্থানীয় অনুসারী |
হামলা ও ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযান চলাকালে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকাবাসীর দাবি, চনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধচক্র সক্রিয় থাকায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, যা এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।