খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই নভেম্বর ২০২৫, ১:৪২ এএম
রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে সি ব্লকের ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিবরিয়া। ঠিক সেই মুহূর্তে মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট-পরিহিত তিন সন্ত্রাসী দোকানের ভেতরে ঢুকে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে তাকে মাথা, বুক ও পিঠ লক্ষ্য করে কাছ থেকে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও আরও গুলি করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুত রিকশা না চালানোয় রিকশাচালককেও গুলি করে তারা। পরে আহত কিবরিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় হামলার পরপরই একজনকে আটক করে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে কিবরিয়াকে কেন হত্যা করা হয়েছে তা পরিষ্কার করেনি কর্তৃপক্ষ। নিহতের পরিবার বলছে—এটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের।
কিবরিয়া হত্যার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গুলি করে হত্যার ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে—অপরাধীরা অবৈধ অস্ত্রের দাপট নিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় আদালতপাড়ায় সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা—ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে জানা যায়, তাকে ‘ডাব খাওয়ানোর’ নামে ফাঁদে ফেলে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী কামাল হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভঙ্গুর করে তুলছে। বিশেষ করে গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া ৫,৭৫০টি অস্ত্রের মধ্যে ১,৩৪২টি এখনও উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে মারাত্মক মারণাস্ত্র—এসএমজি, অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, এলএমজি। এই অস্ত্রগুলো অনেকটাই সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছে গেছে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমান্তপথে অস্ত্র পাচার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত অস্ত্র ঢুকছে। বিশেষত মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত সাতটি রুট দিয়ে বিপুল অস্ত্র পাচার হচ্ছে—যা পাহাড়ি অঞ্চলের সন্ত্রাসী গ্রুপ, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও উগ্রবাদী চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে। এর সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা খুন হয়েছেন—লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ওয়ার্ড সম্পাদক আবুল কালাম, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী নিহত হওয়া তারই উদাহরণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা তৎপর। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য