দেশে হামের উপসর্গজনিত জটিলতায় শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে এক হাজারের বেশি শিশুর শরীরে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই শিশুটি খুলনা বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মোট ৫৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯২ জন শিশুর। সব মিলিয়ে এই সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ২৭ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ১২৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৮৪ হাজার ২৬৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৮৫ জনে।
এছাড়া ওই সময়সীমায় মোট ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কাভারেজ কমে যাওয়া, জনসচেতনতার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বেশি হওয়ায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
সূচক
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টা
১৫ মার্চ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
হামের উপসর্গ শনাক্ত
১,০২৭ জন
৮৪,২৬৬ জন
নিশ্চিত হাম রোগী
১২৬ জন
১০,১৮৫ জন
হামের উপসর্গে মৃত্যু
১ জন
৫৫১ জন
নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু
—
৯২ জন
মোট মৃত্যু
১ জন
৬৪৩ জন
হাসপাতালে ভর্তি
—
৬৮,৯৩৪ জন
সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র
—
৬৫,২৭৫ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।