খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকার মিন্টো রোডে ‘সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি’ করার সময় আটক এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার সকালে ৫৫ বছর বয়সী এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর তাকে ঢাকার একটি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে শুনানি হবে সোমবার।
রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আটক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তার বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনায়েত করিমকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছে রমনা থানা পুলিশ।
আবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তি নিউইয়র্ক থেকে এসেছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান এবং ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট পান। ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি নিউইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। প্রথম দুই দিন তিনি হোটেল সোনারগাঁওয়ে ছিলেন এবং পরের কয়েকদিন গুলশানে কাটান।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকার মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ তিথি আসামি এনায়েতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন এবং সোমবার তার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
রমনা মডেল থানার এসআই আজিজুল হাকিম তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এনায়েতের বিরুদ্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়।
আবেদনে বলা হয়েছে, এনায়েত করিম চৌধুরীকে ঢাকার মিন্টো রোডে একটি প্রাডো গাড়িতে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখা যায়। এসময় তার গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এজন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার কাছ থেকে দুইটি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে তার ফোন পরীক্ষা করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয় আবেদনে।
এতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম দাবি করেন যে, তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
“তিনি একটি বিশেষ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব নাজুক অবস্থায় আছে এবং সেনাবাহিনীর সাথে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে কাজ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান।”
আবেদনে এনায়েত করিমের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে আসার পর তিনি সরকারি উচ্চ ও নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।
“বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে তাকে নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতেন বলে জানান।”
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, “জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম তার আমেরিকান পাসপোর্টের তথ্য দিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় গিয়েছেন এবং ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পেয়েছেন। তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের কথা বললে তিনি জানান, আমেরিকায় যাওয়ার পর তার পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন। এজন্য তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও এনআইডি নেই। এই আসামি বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্যদেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে এসে জননিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছেন যা ধর্তব্য অপরাধ।”
“এনায়েত করিম চৌধুরী ধর্তব্য অপরাধের সাথে জড়িত আছেন বলে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ হওয়ায় তাকে আপাতত কার্যবিধি ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।”
এনায়েত করিমের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং বর্তমান সরকার ‘উৎখাত ষড়যন্ত্রের’ সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
খবরওয়ালা/টিএসএন