খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের সমস্ত নজর কেন্দ্রীভূত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ নতুন সরকারে ক্ষমতা সংরক্ষণ বা পরিবর্তন দেশের স্থিতিশীলতা ও তাদের নিজস্ব স্বার্থের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের দিক থেকে প্রতিটি দেশের আলাদা এজেন্ডা থাকলেও মূলত তারা সবাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাইছে।
বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “নির্বাচনে কোনও কারচুপি বা ভোট ডাকাতি হচ্ছে কি না, তা প্রত্যেক দেশ দেখবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় পরিস্থিতি কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতা সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনসহ বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক যুক্ত সব দেশ আগাম নির্বাচন ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তারা একটি মৌলিক সিগন্যাল পেয়েছে।”
প্রধান আন্তর্জাতিক স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গি (সারসংক্ষেপ)
| দেশ/অঞ্চল | স্বার্থ ও মনোভাব | বিশেষ লক্ষ্য |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে চীনের প্রভাব সীমিত রাখা | ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া |
| ভারত | নতুন সরকারকে স্বাগত জানানো ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ | অতীতের সুবিধা ও কানেক্টিভিটি বজায় রাখা |
| চীন | ইতিপূর্বে করা চুক্তি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা | নতুন প্রকল্পে প্রাধান্য রাখা |
| অন্যান্য দেশ | দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা | নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা |
নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপি তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতি প্রাধান্য দিচ্ছে, যেখানে সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জামায়াতের নীতি “পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদা” নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধিই প্রধান লক্ষ্য।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, “সব দেশ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চাইছে, কিন্তু প্রত্যেক দেশের লক্ষ্য ভিন্ন। ভারতের জন্য জিওগ্রাফিক, ডেমোগ্রাফিক ও সিকিউরিটি ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বিনিয়োগ স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রভাব ও সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক পর্যবেক্ষণ করছে।”
নির্বাচন ও ফলাফলের ওপর এই আন্তর্জাতিক মনোযোগ দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। আগামীর সরকারকে এই বাস্তবতা বুঝে সব দেশের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।