খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার খুচরা বাজারে বেগুনের দাম আড়তদরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। উৎপাদনকারী পর্যায়ে প্রতি কেজির দাম ৩৭ টাকা হলেও রাজধানীতে তা ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এ অবস্থার পেছনে মূলত পথপথে নেওয়া ‘সমঝোতার চাঁদা’ দায়ী বলে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা অভিযোগ করছেন।
উত্তরের ঐতিহ্যবাহী বগুড়ার মহাস্থান হাটে প্রতি মন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০০–১৫০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজি প্রতি ৩৫–৩৭ টাকা। শসা কেজি প্রতি ৩৫–৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছানোতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে।
একটি হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী:
| পণ্যের নাম | আড়তের দাম (কেজি) | ঢাকার খুচরা দাম (কেজি) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| বেগুন | ৩৭ টাকা | ১০০ টাকা | ১৭০% |
| শসা | ৩৫ টাকা | ৮৫ টাকা | ১৪৩% |
| টমেটো | ৪০ টাকা | ৯৫ টাকা | ১৩৮% |
চাঁদাবাজির প্রক্রিয়া এমন যে, হাটে কৃষকের ট্রাকে পণ্য ওঠার সময় ২০ টাকা প্রতি মণের চাঁদা দিতে হয়। কেউ যদি এ খাজনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পথে পথে যাওয়া ট্রাক থামিয়ে আবার চাঁদা আদায় করা হয়। ট্রাক চালক কাশেম জানিয়েছেন, “সড়কের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ ট্রাক থামিয়ে স্লিপ ধরিয়ে টাকা নেওয়া হয়, তা না দিলে কেউ যেতে পারবে না।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম বলেন, “আমার নামে কেউ স্লিপ বানিয়ে টাকা আদায় করছে; আমাদের লোকজন কোনো খাজনা নেয় না।” তবে ব্যবসায়ীরা ও কৃষকরা এ দাবি অস্বীকার করছেন।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, “এটি কোনো সমঝোতার বিষয় নয়। যেসব ব্যক্তি রাস্তায় টাকা আদায় করছে, তা চাঁদাবাজি। আমরা এটি প্রশ্রয় দিচ্ছি না।”
পথে চাঁদাবাজির কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সবজির ট্রাকে প্রতিটি ব্রিজে দুইশ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা মূলত টোলের আড়ালে ঘটছে। ঢাকায় পৌঁছালে আড়তদাররা পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম নির্ধারণ করেন, ফলে পথপথে নেওয়া চাঁদার কারণে দাম বেড়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি বোঝার জন্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, “বাজার খালাসের খরচ ৫০০ টাকা হলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে ১,০০০ টাকা।” অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খল পুরোপুরি চাঁদাবাজির কবলে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন আসে, হাট থেকে সড়ক পর্যন্ত চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য শেষ হবে কবে, এবং এর প্রভাব কতটা পণ্যের মূল্যে পড়ছে? সরকার ও প্রশাসনের তৎপরতা ছাড়া এ চক্র ভাঙা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।