খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে কার্তিক ১৪৩২ | ১০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া এক সপ্তাহের সময় আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সমাধানের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং সনদ বাস্তবায়ন ও রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকার দ্রুতই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আবারও আলোচনা করতে পারে।
আইন মন্ত্রণালয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারির প্রস্তুতি চলছে এবং খসড়া আদেশ আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন হতে পারে। চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল বিষয়গুলো হলো: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, গণভোটের সময় নির্ধারণ এবং সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই সনদ ও এর বাস্তবায়ন বিষয়ে সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করার পর এই ইস্যুগুলো সামনে এসেছে।
সরকার গত ৩ নভেম্বর দলগুলোকে আহ্বান জানায় শিগগিরই একটি অভিন্ন সিদ্ধান্ত জানাতে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলগুলো আলোচনা ও বৈঠক করেছে, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বরং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপের পর প্রণীত জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো নতুনভাবে সমঝোতার আহ্বানকে গ্রহণ করেনি।
ফলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ বেড়েছে। দুই দলই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের পক্ষে থাকলেও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট চায়। তারা দাবী করছে, যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তা গণভোট প্রস্তাবে উল্লেখ থাকতে হবে এবং দেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যদিকে জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় এবং তাদের দাবি, গণভোট প্রস্তাবে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না।
জামায়াত সহ আটটি ইসলামী দল পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে এবং কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। বিএনপি ও অন্যান্য দল এই কর্মসূচি জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথ উত্তপ্ত হতে দেব না। নির্বাচনের দিন ছাড়া গণভোটের বিকল্প নেই। সংসদের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটিক প্রসেসে আগাচ্ছি। জনমত তৈরি করতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। জনগণের কাছে যাচ্ছি, ভয়েস রেইজ করছি, সরকারকে কনভিন্স করার চেষ্টা করছি।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘দলগুলো শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সরকার তার ওপর দায়বদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের প্রস্তুতি চলছে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন