সম্পত্তি বিরোধে দাফন ঘিরে সংঘর্ষ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত আব্দুল জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান আব্দুল জলিল পণ্ডিত। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পূর্বের চার স্ত্রীর সন্তানরা বাড়িতে সমবেত হন। এ সময় তারা পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি, উত্তরাধিকার এবং ওয়ারিশদের প্রাপ্য অংশ নিয়ে আলোচনা ও হিসাব দাবি করেন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের সূত্রপাত ঘটে যখন চতুর্থ স্ত্রীর ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন যে, তার বাবার নামে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাওয়ার অধিকারী নন। অপরদিকে, অন্য স্ত্রীর সন্তানরা পৈতৃক ও অর্জিত সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের দাবি জানান। এ নিয়ে প্রথম দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আব্দুল জলিল পণ্ডিতের চতুর্থ স্ত্রীর সাবেক জামাতা খোকন একটি পৃথক দাবি উত্থাপন করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার তিনি শ্বশুর এবং সাবেক স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ দিয়ে দুটি বসতঘর এবং কিছু জমি কেনা হয়। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পরও তার সম্পদের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় সম্পদের বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি মরদেহ দাফনে আপত্তি জানান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি পরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

তবে দাফনের প্রস্তুতির সময় নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি ছিল, জীবদ্দশায় আব্দুল জলিল পণ্ডিত নিজ বাড়ির উঠানের সামনে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে খাদিজা আক্তার স্মৃতি জোর দিয়ে বলেন, মরদেহ বাড়ির বাইরে অন্য কোনো কবরস্থানে দাফন করা উচিত। এই মতবিরোধ দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়ির সামনেই মরদেহ দাফন করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ এক নজরে

বিষয় বিবরণ
মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল জলিল পণ্ডিত
এলাকা রসুলপুর ইউনিয়ন, চরফ্যাশন, ভোলা
মৃত্যুর সময় শুক্রবার রাত প্রায় ৩টা
বিরোধের কারণ উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি দাবি
প্রথম সংঘর্ষ সম্পত্তির মালিকানা ও অংশীদারত্ব নিয়ে
দ্বিতীয় সংঘর্ষ মরদেহ কোথায় দাফন হবে তা নিয়ে
পুলিশের ভূমিকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন
অভিযোগের অবস্থা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ নেই

স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ সমাজে উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ প্রায়ই পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে একাধিক উত্তরাধিকারী এবং বিভিন্ন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পদের মালিকানা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তা অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পদের সঠিক হিসাব ও বণ্টন নিশ্চিত করা হলে বিরোধ অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।