খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ও নৃশংস অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। লোকলজ্জা এবং ভয়ভীতির কারণে বিষয়টি প্রথমে চেপে রাখার চেষ্টা করা হলেও, শনিবার (২০ জুন) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এই জঘন্য অপরাধের কথা প্রকাশ্য আসে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
নির্যাতিত শিশুটির মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উত্তর জয়পুর গ্রামের একটি নির্জন ও খালি বাড়িতে প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত কিশোর। সেখানে অবোধ শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। অপরাধের তীব্রতা ঢাকতে এবং ঘটনাটি যেন কেউ দেখে না ফেলে, সেজন্য অভিযুক্ত কিশোরের এক সহযোগী বাইরে পাহারায় নিযুক্ত ছিল।
নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা ভয় দেখায় যে, এই ঘটনা বাবা-মা বা অন্য কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে। অবোধ শিশুটি ভয়ে প্রথমে চুপ থাকলেও, রাতের দিকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতা অনুভব করলে মায়ের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
শনিবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এ কে এম আসিফ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাঠানো পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে আমরা জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার প্রয়োজনীয় শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। ল্যাবরেটরি রিপোর্টের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে পাওয়ার পর শিশুটির শারীরিক আঘাত ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সঠিক তথ্য প্রদান করা সম্ভব হবে।”
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছে। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মৌখিকভাবে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আসামিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান চালানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও সর্বশেষ আপডেট |
| ঘটনার স্থান | উত্তর জয়পুর গ্রাম, শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন, নাজিরপুর, পিরোজপুর। |
| ঘটনার সময় | ১৯ জুন (শুক্রবার) বিকেল বেলা। |
| ভুক্তভোগী | ৫ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা। |
| অভিযোগের ধরণ | প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকি। |
| অভিযুক্তদের ভূমিকা | একজন মূল অভিযুক্ত (কিশোর) এবং একজন সহযোগী (বাহিরে পাহারাদার)। |
| বর্তমান চিকিৎসাস্থল | পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল (মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায়)। |
| আইনি অবস্থা | পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে; লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষ নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। |
প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের মতো এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে ফুটিয়ে তোলে। এই ধরণের অপরাধ রুখতে কেবল আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের একা চলাচলের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে হবে এবং যেকোনো অস্বাভাবিক আচরণের প্রতি নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এই ধরণের নৃশংস অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করা সম্ভব হবে।