খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে কার্তিক ১৪৩২ | ১১ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
একা থাকার আনন্দ একবার যাদের মন ছুঁয়ে যায়, তারা আর প্রথাগত প্রেমের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে চান না। ব্যাচেলর মানেই নির্ভেজাল, নির্বিবাদী জীবন। নিজের মতো করে বাঁচা, নিজের মতো করে ভাবা—যেন সুতাবিহীন ঘুড়ির মতো খোলা আকাশে উড়ে চলা। কারও হাতে নেই সেই ঘুড়ির নাটাই, নেই কারও কাছে কৈফিয়ত—কী, কেন, কখন বা কীভাবে। নিয়ম করে ফোন করা, খুদেবার্তা পাঠানো, বিশেষ দিন মনে রাখা কিংবা প্রশংসার জটিলতায় জড়ানো থেকেও মুক্ত থাকেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ব্যাচেলর দিবস’। যদিও দিনটি ‘সিঙ্গেল দিবস’ নামেই বেশি পরিচিত, তবে এর শুরু হয়েছিল ‘ব্যাচেলর দিবস’ হিসেবেই।
১১ নভেম্বরের সংখ্যাগত রূপ ১১-১১—যেখানে এক সংখ্যা একাকীত্বের প্রতীক। সেই সূত্র ধরেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে আনন্দ আর আয়োজনের মধ্য দিয়ে কিংবা নিভৃতে নিজের মতো করে।
চীনে দিনটি বাণিজ্যিক উৎসব হিসেবেও বিবেচিত হয়। সেখানে অবিবাহিত মানুষরা নিজের কিংবা প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটার মাধ্যমে নিজের একাকিত্বকে আনন্দে রূপ দেন।
দিনটির সূচনা চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিঃসঙ্গ শিক্ষার্থী, যারা ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়েছিলেন বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে একাকীত্ব বেছে নিয়েছিলেন, তাদের হাত ধরেই শুরু হয় সিঙ্গেল ডে বা সঙ্গীহীনতার এই উদযাপন।
যদিও তারা ভালোবাসায় ব্যর্থ ছিলেন, তবুও জীবনের প্রতি ছিল তাদের ইতিবাচক মনোভাব। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেন, ভালোবাসার মানুষের জন্য কষ্ট না পেয়ে বরং একা থাকাকেই উদযাপন করবেন।
সেই ভাবনা থেকেই ১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বরকে বেছে নেওয়া হয় দিনটি পালনের জন্য। কারণ, ১১-১১ সংখ্যাটি রোমান হরফে চারটি এককে প্রকাশ করে, যা এককতা ও মিলিত শক্তির প্রতীক।
ভালোবাসা দিবসের বিপরীতে এই ব্যাচেলর দিবসটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পায় চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বন্ধুত্ব, আনন্দ ও মজার মধ্য দিয়ে নিঃসঙ্গ মানুষরা এই দিনটিকে নিজেদের মতো করে উদযাপন করেন। টমাস ও রুথ রয় নামের দুই ব্যক্তির উদ্যোগে দিনটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এটি ঠিক কবে থেকে পালিত হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন