খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে ৩৩ করা হচ্ছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার ৩২ বছর নির্ধারণ করে যে গেজেট প্রকাশ করেছিল, সেটি সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিদ্যমান গেজেটের কারণে কিছু কিছু পদে যেখানে অধিক বয়সে প্রবেশের সুযোগ ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিভাগীয় প্রার্থীদের ব্যাপারেও কিছু বলা হয়নি। এই ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফের সরকারি অধ্যাদেশ ২০২৪ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যেকোনো দিন উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমানের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ও যুগ্মসচিব পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার জন্য আন্দোলন চলমান রয়েছে। পূর্বে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও পুরুষের জন্য ৩৫ এবং নারীদের জন্য ৩৭ বছর করার সুপারিশ করেছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া কিছু কিছু সরকারি পদে অধিক বয়সে নিয়োগের বিধান ছিল। সময়ের প্রয়োজনে এই ধরনের নিয়ম থাকা জরুরি। যেমন: সরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক, প্রিন্সিপাল এবং সরকারি কলেজের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে সরাসরি নিয়োগের বয়স কত হবে, সে বিষয়ে গত বছর জারি করা অধ্যাদেশে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। ফলে এসব পদে সরাসরি নিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ক্যাটাগরিভিত্তিক কোন পদে কত বছর হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩ বছর করার সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়সসীমা কত হবে এবং তাদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য কিনা, তা গত বছর জারি করা গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া সরকারি অফিসের কম্পিউটার পারসোনেল নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেমন: সহকারী প্রোগ্রামার, প্রোগ্রামার, সিনিয়র প্রোগ্রামার, সহকারী পরিচালক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক, উপ-মহাব্যবস্থাপক, সিস্টেম ম্যানেজার, মুখ্য রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী, সহকারী সিস্টেম এনালিস্ট, সিস্টেম এনালিস্ট, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট, অপারেশন ম্যানেজার এবং কম্পিউটার অপারেশন সুপারভাইজার পদে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমাও প্রকাশিত অধ্যাদেশে উল্লেখ নেই। এতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীরা উভয়ই সংকটে পড়েছেন।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম এই অধ্যাদেশটি আবার সংশোধন করা প্রয়োজন, অন্যথায় জটিলতা আরও বাড়বে।” তিনি বলেন, “৩২ বছরের বেশি বয়সে যাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ ছিল, এই অধ্যাদেশের ফলে তাদের সেই সুযোগ কমে গেছে। অর্থাৎ, বয়সসীমা কমিয়ে দেওয়ায় তারা চাকরির যোগ্যতা হারিয়েছেন।” উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১ অনুযায়ী, সরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা ৪০, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৪৫ এবং প্রিন্সিপাল পদে ৫০ বছর ছিল। শিক্ষা ক্যাডারে সহযোগী অধ্যাপক পদে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা ৪৫ এবং বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য ৫০ বছর নির্ধারিত ছিল। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ফলে তারা নিয়োগের যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং তাদের নিয়োগ কীভাবে হবে তা পরিষ্কার করা হয়নি। প্রায় ৯ মাস পর সরকার বুঝতে পেরেছে যে এটি সঠিক ছিল না।” সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সরকারি অফিসের কম্পিউটার পারসোনেল নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯-এ বয়সসীমা ৪৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। উপ-পরিচালক/উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স ৪৫ বছর হতে হবে। উপ-পরিচালক/সিস্টেম ম্যানেজার পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে বয়সসীমা ৪৫ বছর। মুখ্য রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট, সিনিয়র রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীর বয়স ৪৫ বছর হবে।
সিস্টেম এনালিস্টের বয়স ৪০ বছর, সিনিয়র প্রোগ্রামার ৪০ বছর, অপারেশন ম্যানেজারের বয়স ৪০ বছর, সহকারী সিস্টেম এনালিস্টের ৩৫ বছর, প্রোগ্রামারের ৩৫ বছর, কম্পিউটার সুপারভাইজারের ৩৫ বছর এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীর ৩৫ বছর নির্ধারণ করা আছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করায় উল্লিখিত পদগুলোতে নিয়োগের প্রত্যাশীরা তাদের যোগ্যতা হারিয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন