খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন বেতন স্কেলের প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা রয়েছে কমিশনের। সার্বিক বেতন কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রেড কমানোর বিষয়েও কমিশন চিন্তা করছে।
বর্তমানে সাধারণ নাগরিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশন—সব পক্ষের কাছ থেকেই কাঙ্ক্ষিত বেতন কাঠামো নিয়ে মতামত আহ্বান করছে কমিশন।
গ্রেড পুনর্বিন্যাস নিয়েও মতামত চাওয়া হয়েছে। কমিশনের প্রশ্নপত্রে পঞ্চম প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, আপনি কি বর্তমান ২০ গ্রেড বেতন কাঠামো সমর্থন করেন? এর পরবর্তী প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, আপনার পছন্দের গ্রেড সংখ্যা কত এবং এর যৌক্তিকতা কী?
আরেকটি প্রশ্নে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের অনুপাত কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? পাশাপাশি বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় কী ধরনের অসংগতি রয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
বেতন কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কমিয়ে বৈষম্য হ্রাস করাকে কমিশন অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এ কারণে বর্তমান ২০টি গ্রেড পুনর্বিন্যাস করে মোট গ্রেডের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। চারটি ক্যাটাগরিতে মতামত সংগ্রহের পর কমিশন সংশ্লিষ্ট কমিটি ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে গ্রেড পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
পে স্কেল ২০১৫ অনুসারে দেখা গেছে, বিদ্যমান কাঠামোয় ৮ম (২২,০০০) ও ৯ম গ্রেডের (২৩,০০০) বেতনের পার্থক্য মাত্র ১,০০০ টাকা। একইভাবে ২০তম ও ১৯তম গ্রেডের ব্যবধান মাত্র ২৫০ টাকা, ১৭তম (৯,০০০) ও ১৮তম গ্রেডের (৮,৮০০) ব্যবধান ২০০ টাকা, আর ১২তম ও ১৩তম গ্রেডের পার্থক্য মাত্র ৩০০ টাকা। এসব খুবই কম ব্যবধানের গ্রেড একীভূত করে সংখ্যা কমানো যায় কি না, তা নিয়েই ভাবছে কমিশন।
কমিশনের মতে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের পার্থক্য হ্রাস করে বৈষম্য দূর করা হবে। এজন্য বিদ্যমান ২০ গ্রেড পুনর্বিন্যাস করে সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা চলছে। মতামত যাচাইয়ের পর গ্রেড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বেতনের ব্যবধান কমানো এখন জরুরি। নচেৎ নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মীদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং এতে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে।
তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, বাংলাদেশ চাইলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো কাঠামো অনুসরণ করতে পারে। সেখানে সরকারি চাকরিজীবীরা তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত—গ্রুপ-সি, গ্রুপ-বি এবং গ্রুপ-এ। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এই তিন গ্রুপের জন্য মোট ১৮ স্তরের বেতন স্কেল ব্যবহার করে, যেখানে লেভেল-১ হলো সর্বনিম্ন এবং লেভেল-১৮ সর্বোচ্চ।
খবরওয়ালা/টিএসএন