খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন দ্বিমুখী উৎসাহ বোনাস নীতি চালু হওয়ার পর থেকেই চরম অসন্তোষ এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য পৃথক বোনাস কাঠামো প্রণয়ন করায় ন্যায়, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, একই খাতের ভেতরে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করলে কর্মীদের মনোবল কমতে পারে এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই লোকসান থাকা সত্ত্বেও উৎসাহ বোনাস প্রদানের অনুমতি পাচ্ছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নেট লাভ নিরূপণ করার সময় লোন ও অগ্রিমের জন্য রাখা প্রভিশন, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রভিশন এবং অন্যান্য সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন বিবেচনায় নেওয়া হবে। সংশোধিত লাভের ভিত্তিতে কর্মক্ষমতার নির্দিষ্ট সূচক অনুযায়ী বোনাস নির্ধারণ করা হবে। একটি কর্মী এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস পেতে পারেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, মন্ত্রণালয় “বিশেষ বিবেচনা” হিসেবে শর্ত পূরণ না করলেও সরকারি ব্যাংকের জন্য অন্তত একটি বোনাস অনুমোদনের ক্ষমতা রাখছে। নীতি ২০২৪ সালের আর্থিক বছরের জন্যও প্রযোজ্য করা হয়েছে, যা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
পরিবর্তে, বেসরকারি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নীতি যথেষ্ট কঠোর। প্রকৃত নেট লাভ ছাড়া কোনো বোনাস অনুমোদন হবে না। মূলধন পর্যাপ্ততা বা আইনি সুরক্ষা তহবিল কম থাকলে বোনাস সম্পূর্ণভাবে বাতিল হবে। লোন পুনঃসমন্বয়, স্থগিত প্রভিশন সুবিধা বা সাময়িক নিয়ন্ত্রক ছাড় প্রাপ্ত লাভ বোনাসের জন্য গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলো সংরক্ষিত বা জমা করা লাভ থেকে বোনাস প্রদান করত, কিন্তু তা এখন বন্ধ। ক্লাসিফায়েড ও লেখাঅপসারিত লোন পুনরুদ্ধারে অগ্রগতি এবং প্রধান ব্যাংকিং কর্মক্ষমতা সূচকের উন্নতি প্রদর্শন করতে হবে। ব্যর্থ হলে বোনাস প্রাপ্তি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হবে।
পেশাগত সূত্রে জানানো হয়েছে, এই দ্বিমুখী নীতি অনেক বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের মনোবল হ্রাস করবে। সরকারি ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও তহবিল ঘাটতি থাকলেও বোনাস দেওয়ার সুযোগ থাকে, অথচ লাভে ফিরেও আসা বেসরকারি ব্যাংকরা একই সুবিধা পাচ্ছে না। অর্থ বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আর্থিক বছরের শেষে বোনাস প্রদানের দীর্ঘকালীন প্রথা ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে মাত্র কয়েকটি শক্তিশালী বেসরকারি ব্যাংকই বোনাস দিতে সক্ষম হবে, যা খাতের মোট কর্মী উদ্দীপনা এবং ব্যাংকিং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।