খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সরকার সমিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০,০০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এ জন্য ১০ বছরের শরীয়া-ভিত্তিক সুকুক (ইসলামিক বন্ড) ইস্যু করা হবে। এটি নতুনভাবে গঠিত ব্যাংকের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, যেখানে সরকার বছরে ৯.৭৫% লাভ অর্জন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ৭-৮ জানুয়ারি ব্যাংকের উপ-গভর্নর মো. কবির আহমদের সভাপতিত্বে গঠিত শরীয়া পরামর্শক কমিটি সুকুক ইস্যু সংক্রান্ত আলোচনা করেছে। বৈঠকে সদস্যরা লিজ পদ্ধতির মাধ্যমে সুকুক ইস্যু করা বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
সুকুকের ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সাতটি হাউজিং প্রকল্প এবং বাংলাদেশের কিছু নির্দিষ্ট ট্রেন সার্ভিস। এই সুকুকের নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকার বিশেষ সুকুক-১’, যা ব্যাংকের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে সরাসরি ইস্যু করা হবে। সরকার ব্যাংক থেকে ১৪ জানুয়ারি ১০,০০০ কোটি টাকা পাবেন।
অর্থমন্ত্রণালয় ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বড় পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবে এবং স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল তৈরি হবে। একই সঙ্গে, এটি ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
স্মরণযোগ্য, সমিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পেছনের কারণ ছিল আগের ব্যাংকগুলোর সংকট। আগের সরকারের সময়ে কিছু ব্যাংক থেকে ঋণের প্রতারণামূলক উত্তোলন ঘটে, যা ব্যাংকগুলোকে ধীরে ধীরে গভীর সংকটে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে এক্সিম, সোশাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে মিশিয়ে সমিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
ব্যাংকের মূলধন ও শাখার তথ্য নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| বিষয় | পরিমাণ / তথ্য |
|---|---|
| ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন | ৩৫,০০০ কোটি টাকা (সরকার ২০,০০০ কোটি, বাকি ১৫,০০০ কোটি জমাকারীর শেয়ার) |
| অনুমোদিত মূলধন | ৪০,০০০ কোটি টাকা |
| পাঁচটি ব্যাংকের মোট আমানত | ১,৪২,০০০ কোটি টাকা (৭.৫ মিলিয়ন জমাকারী) |
| মোট ঋণ | ১,৯৩,০০০ কোটি টাকা (বৃহৎ অংশ নন-পে) |
| শাখা সংখ্যা | ৭৬০ |
| উপ-শাখা | ৬৯৮ |
| এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট | ৫১১ |
| এটিএম বুথ | ৯৭৫ |
| কর্মচারীর বেতন ও ভাতা কমানো | ২০% |
সমিলনের পরে একই এলাকায় একাধিক শাখা এক বা দুটি শাখায় মিলিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া, অপারেটিং খরচ কমানোর জন্য কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ২০% কমানো হয়েছে।
সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার ব্যাংকের জন্য স্থিতিশীল তহবিল নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগের পথ সুগম করবে।