খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ও চূড়ান্ত নির্ধারণী ম্যাচে পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (২ মে, ২০২৬) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় স্বাগতিকরা। এই পরাজয়ের ফলে সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস দলের ব্যাটিং বিপর্যয়, টসের গুরুত্ব এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।
ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংসে দফায় দফায় বৃষ্টির বাধা আসে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আম্পায়াররা ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৫ ওভারে নির্ধারণ করেন। তবে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটেও নির্ধারিত ওভার শেষ করতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। ৪ বল বাকি থাকতেই ১৪.২ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র ফুটে ওঠে স্কোরকার্ডে—এক পর্যায়ে ৩৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে উদ্ধারে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ২২ বলে ২৮ রানের একটি ছোট জুটি গড়েন। তবে ইনিংসের মাঝপথে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকায় সেই মোমেন্টাম বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ দিকে মাত্র ৩৯ রানের ব্যবধানে ৭টি উইকেট হারিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস পরাজয়ের পেছনে প্রধানত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বিরতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এবং হৃদয় যখন একটি কার্যকর জুটি গড়ার পথে ছিলাম, ঠিক তখনই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মোমেন্টাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় আমাদের সেই ছন্দটি নষ্ট হয়ে যায়। বিরতির পর পুনরায় মাঠে নেমে সেই মোমেন্টাম ফিরে পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
অধিনায়ক আরও যোগ করেন যে, বড় জুটির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আবহাওয়া সেই সুযোগ দেয়নি। তার মতে, “দিনটি আসলে আমাদের অনুকূলে ছিল না। টসের সময় আমি বলেছিলাম আবহাওয়া বড় ফ্যাক্টর হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।”
মিরপুরের উইকেটে ১০২ রানের সংগ্রহ যে লড়াই করার মতো ছিল না, তা অকপটে স্বীকার করেছেন অধিনায়ক। লিটন দাসের মতে, “অবশ্যই এই ধরনের ভালো উইকেটে ১০০ বা ১০২ রান যথেষ্ট নয়। আমার মনে হয় ১৬০ রানের কাছাকাছি যেকোনো স্কোর চ্যালেঞ্জিং হতো। তবে বৃষ্টির কারণে আর্দ্রতা ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে প্রথমে ব্যাট করে ১৫০ রান করাটাও বেশ কঠিন ছিল।”
লিটন আরও উল্লেখ করেন যে, এই ম্যাচে টস জয়-পরাজয় একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরে ব্যাটিং করা দল কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও বোলিং ইউনিটের লড়াই করার মানসিকতার প্রশংসা করেছেন লিটন দাস। বিশেষ করে পেসার শরিফুল ইসলামের বোলিং পারফরম্যান্সকে তিনি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। শরিফুলের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের ওপর প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল।
লিটন বলেন, “শরিফুল খুব ভালো বোলিং করেছে। তার স্পেল আমাদের নিউজিল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চাপ আমরা ধরে রাখতে পারিনি। সামগ্রিকভাবে আমাদের ব্যাটিং এবং বোলিং—কোনো বিভাগেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ভালো পারফরম্যান্স হয়নি।”
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল। কিন্তু শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলো।
বৃষ্টি আইনে নিউজিল্যান্ড তাদের লক্ষ্যমাত্রা সহজেই অতিক্রম করে ফেলে এবং বেভান জ্যাকবস ৬ উইকেটের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন। সিরিজ শেষে তাওহীদ হৃদয়কে তার ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের জন্য সিরিজসেরা ঘোষণা করা হয়। লিটন দাসের মতে, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ইনিংসের মাঝপথে ছন্দপতনই বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ের গৌরব থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই আরও উন্নতির প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।