খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
বাঙালি সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের উজ্জ্বল এক নাম শাহাদত চৌধুরী। সম্পাদক, শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দীর্ঘ ছয় দশকের কর্মময় জীবনে তিনি রেখে গেছেন অনন্য অবদান। তাঁর মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধায়।
১৯৪৩ সালের ২৮ জুলাই খুলনায় জন্ম নেওয়া শাহাদত চৌধুরী ঢাকা গ্রাজুয়েট হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর ঢাকা ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস থেকে পেইন্টিংয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। সাহিত্য ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে কৈশোরেই পত্রিকাজগতে তাঁর প্রথম পদচারণা শুরু। লেখালেখি, কচিকাঁচার আসরসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন সক্রিয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি যুক্ত হন ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা অভিযানে। সেক্টর–২ কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ নেন তিনি। পুরান ঢাকার হাটখোলায় তাঁদের বাড়ি সে সময় হয়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
স্বাধীনতার পর তিনি ফিরে আসেন সাংবাদিকতায়। ১৯৭২ সালে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন সাপ্তাহিক বিচিত্রায়। তাঁর সম্পাদনায় বিচিত্রা ২৫ বছর ধরে (১৯৭২–১৯৯৭) দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি হিসেবে পাঠকের কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। নতুন ভাবনা, সাহসী উপস্থাপন ও পাঠকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য সেই সময় বিচিত্রা হয়ে ওঠে জনপ্রিয় গণমাধ্যমের প্রতীক।
১৯৯৭ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে বিচিত্রা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি নতুন উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে সাপ্তাহিক ২০০০ এবং পাক্ষিক আনন্দধারা প্রকাশ করেন। তাঁর এই উদ্যোগও দেশের গণমাধ্যম জগতে নতুন অধ্যায় যোগ করে।
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর শাহাদত চৌধুরীর জীবনাবসান হয়। তবে তাঁর সৃষ্টি, আদর্শ ও সাংবাদিকতার উদ্ভাবনী পথচলা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
খবরওয়ালা/টিএসএন